তুরস্কের টেলিভিশন নাট্যজগতের অন্যতম উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল নক্ষত্র ইসি ইরতেম আর নেই। জীবনের বসন্তকালেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই গুণী অভিনেত্রী। গত সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) বিকেলে নিজ বাসভবনে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, গত ১৪ জুন ছিল তাঁর ৩৫তম জন্মদিন। উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই এমন শোকাতুর সংবাদে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর ভক্ত ও সহকর্মীরা।
অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত আইনজীবী উগুর গোক্কোয়ুন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন বিকেলে ইসি ইরতেমকে তাঁর শোবার ঘরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দেখতে পান তাঁর মা, যাঁর সাথেই তিনি বসবাস করতেন। দ্রুত চিকিৎসকদের ডাকা হলে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া বা ‘হার্ট অ্যাটাক’ (Heart Attack)-কে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে অভিনেত্রীর এই আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানামুখী গুঞ্জন ও ‘সুইসাইড’ বা আত্মহত্যার জল্পনা ছড়িয়ে পড়লে তাঁর আইনজীবী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, “ইসি ইরতেম নিজের জীবন নিজে শেষ করে দিয়েছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমরা সবাইকে এই সংবেদনশীল সময়ে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
১৯৯১ সালের ১৪ জুন তুরস্কের সিভাসে জন্মগ্রহণ করেন ইসি ইরতেম। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৪ সালে তিনি ইয়াসার ইউনিভার্সিটি থেকে ‘অপেরা অ্যান্ড ভোকাল পারফরম্যান্স’ বিভাগে সফলভাবে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ইস্তাম্বুলের মর্যাদাপূর্ণ ‘সাদরি আলিশিক কালচারাল সেন্টার’ থেকে অভিনয়ের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। ‘ওয়ান লাভ’ সিরিজে তাঁর বলিষ্ঠ অভিনয় তাঁকে তুরস্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। তাঁর এমন অকাল প্রস্থানকে তুর্কি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।