দেশের রক ও মেটাল সংগীতের ইতিহাসে একটি শক্তিশালী স্তম্ভের নাম ‘আর্টসেল’। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে ব্যান্ডটির প্রতিটি ধাপে ছায়ার মতো মিশে ছিলেন এর লিড ভোকালিস্ট ও গিটারিস্ট জর্জ লিংকন ডি কস্তা। ‘অনিকেত প্রান্তর’, ‘দুঃখবিলাস’ কিংবা ‘স্মৃতিস্মারক’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো দিয়ে তিনি এ দেশের একাধিক প্রজন্মের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়ে নিয়েছেন। তবে দীর্ঘ ২৭ বছরের সেই বর্ণিল পথচলায় এবার এল এক সাময়িক বিরতি। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত লিংকন সাময়িকভাবে ব্যান্ডের কনসার্ট ও নিয়মিত কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তাঁর এই অনুপস্থিতিতে আর্টসেলের মঞ্চযাত্রা অব্যাহত রাখতে ‘ট্যুরিং ভোকাল’ হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় মিউজিশিয়ান বখতিয়ার হোসাইন।
গতকাল বুধবার (২৪ জুন) রাতে আর্টসেলের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ভিডিওতে কানাডা থেকে যুক্ত হয়ে লিংকন তাঁর ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘গত ২৭ বছরে আমি কোনো দিন আমার ব্যান্ড এবং ফ্যানদের ছেড়ে এভাবে বিদেশে থাকিনি। তবে জীবনের চলার পথে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে যা এড়ানো সম্ভব হয় না। এটি আমার জন্য অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি তাঁর স্থায়ী বিদায় নয়, বরং একটি সাময়িক বিরতি। ব্যান্ড এবং ভক্তদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি চেয়েছেন তাঁর অনুপস্থিতিতে যেন আর্টসেলের সুর থেমে না যায়।
লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া বখতিয়ার হোসাইনকে নিয়ে লিংকন তাঁর আস্থার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বখতিয়ার একজন অসাধারণ ভোকাল এবং সে আর্টসেলের দর্শন ও আবেগটি বোঝে। আমি ভক্তদের অনুরোধ করব, তাঁর ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে আপনারা সম্মান দেবেন এবং তাঁকে তুলনা না করে তাঁর গানের জন্য ভালোবাসবেন।’ উল্লেখ্য, বখতিয়ার হোসাইন এর আগে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘বে অব বেঙ্গল’-এর প্রধান ভোকাল ও গিটারিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চলতি বছরের শুরুতেই সেই ব্যান্ড থেকে বিদায় নিয়েছেন।
ব্যান্ডের গিটারিস্ট কাজী ফয়সাল আহমেদ এবং ইকবাল আসিফ জুয়েল জানান, লিংকনহীন আর্টসেল চিন্তা করা তাঁদের জন্য ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। গত প্রায় ৬-৭ মাস ব্যান্ডের কোনো স্টেজ পারফরম্যান্স না থাকায় ভক্তদের মাঝে এক ধরনের হাহাকার তৈরি হয়েছিল। ফয়সাল বলেন, ‘ভক্তদের চাহিদাকে আমরা অবজ্ঞা করতে পারি না। লিংকন নিজেই চেয়েছেন ব্যান্ড যেন স্থবির হয়ে না পড়ে।’ আর্টসেলের ২৭ বছরের আবেগ এবং মেটাল মিউজিকের সেই ‘র’ এনার্জি ধারণ করতে বখতিয়ারই ছিলেন তাঁদের সেরা পছন্দ।
নতুন এই দায়িত্ব পেয়ে আবেগে আপ্লুত বখতিয়ার হোসাইন। তিনি বলেন, ‘আর্টসেল একটি মহাকাব্যিক প্রতিষ্ঠান। লিংকন ভাইয়ের শূন্যস্থান পূরণ করার দুঃসাহস আমার নেই, তবে আমি তাঁর রেখে যাওয়া সুরের লিগ্যাসিকে সসম্মানে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’ বাংলাদেশের রক সংগীতের ইতিহাসে লিংকনের এই বিরতি এবং বখতিয়ারের অন্তর্ভুক্তি এক নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিল। ভক্তরা এখন দেখার অপেক্ষায়, বখতিয়ারের কণ্ঠে ‘অনিকেত প্রান্তর’ কিংবা ‘ধূসর সময়’ কেমন নতুন মাত্রা পায়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।