দেশের দ্রুত বর্ধনশীল মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ তাদের অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস খাতের এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি তাদের অংশীদারিত্বের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেছে। মূলত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত সময়ের অর্জিত আয়ের ভাগ হিসেবে এই মোটা অংকের অর্থ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (গতকাল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ডাক ভবনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন হয়।
নগদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের হাতে এই চেকটি তুলে দেন নগদের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আফজাল আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশীদ এবং নগদে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত সহযোগী প্রশাসক মো. নাহিম উদ্দিন। এছাড়া নগদের প্রধান করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা মো. সামসুল ইসলামসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সাথে নগদের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, নগদের সেবা থেকে অর্জিত মোট আয়ের ৫১ শতাংশ পাবে ডাক বিভাগ এবং অবশিষ্ট ৪৯ শতাংশ পাবে নগদ। সেবাটি চালু হওয়ার পর থেকে ডিজিটাল লেনদেনের এই প্রসারে ডাক বিভাগ ধারাবাহিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে নগদ ডাক বিভাগকে আয় ভাগাভাগি বাবদ প্রায় ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা প্রদান করেছে। ফলে নতুন এই কিস্তিসহ ডাক বিভাগের প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাল।
অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম নগদের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং খাতে নগদ একটি কার্যকর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পেরেছে, যা সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাতের জন্য ইতিবাচক। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।