দেশের আকাশপথে যাতায়াতের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার জোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) উড়োজাহাজের জ্বালানি বা ‘জেট ফুয়েল’-এর মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ দাম বাড়ানোর নজিরবিহীন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক জরুরি ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
নতুন নির্ধারিত এই মূল্যতালিকা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটার জ্বালানিতে খরচ বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা, যা শতাংশের হিসেবে ঠিক ৮০ শতাংশ। এই আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালনা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে যাত্রীদের টিকেটের মূল্যের ওপর।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির দাম একইভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে। আগে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ছিল ০.৭৩৮৪ ডলার, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই মূল্যবৃদ্ধির হার প্রায় ৭৯ শতাংশ।
বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক জরুরি সভার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জ্বালানির এই নতুন দর চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন এই বর্ধিত মূল্য আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হঠাৎ করে ‘জেট ফুয়েল’-এর এমন রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিমান সংস্থাগুলো তাদের টিকেটিং ‘বাজেট’ ও ফুয়েল ‘সারচার্জ’ পুনর্নির্ধারণ করতে বাধ্য হবে। এতে করে সাধারণ যাত্রীদের আকাশপথে ভ্রমণের ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক এভিয়েশন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এই বাড়তি খরচ একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।