রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: ভুল তথ্য দিয়ে মিয়ানমারের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা ও অসংগতিপূর্ণ আচরণ আবারো সামনে এল। সম্প্রতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে ‘তথ্যগত ভুল ও অসংগতিপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ। এই অসংগতিগুলো দ্রুত সংশোধনের জন্য মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (মিয়ানমার অনুবিভাগ) মো. তৌফিক-উর-রহমান।


বৈঠকে বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মিয়ানমারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যে উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঢাকা জোর দিয়ে বলেছে, এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘ ব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্যই একমাত্র ভিত্তি হতে পারে। উল্লেখ্য, গত শনিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল যে, তারা বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা যাচাই-বাছাই করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের বাসিন্দা, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জন ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত। এমনকি দেশটি রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আন্তর্জাতিক তথ্যকেও সরাসরি অস্বীকার করেছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান বৈঠকে দুই দেশের সম্মত দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার তাগিদ দেন। তিনি বিশেষ করে ২০১৭ সালের পরবর্তী সময়ে নতুন করে আগত এবং শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। বাংলাদেশ বর্তমান মুহূর্তে যে নতুন নিবন্ধনের কাজ করছে, সেই তথ্যগুলোও যথাসময়ে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।


এছাড়া, বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় নিয়ে মিয়ানমারের ভুল অবস্থানেরও কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করেন যে, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নন; মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নিজেই অতীতে তাদের জাতিগত পরিচয় স্বীকার করে নিয়েছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর শব্দ চয়ন করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় ঢাকা।


জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে তার সরকারের ‘অঙ্গীকার’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রাখাইনে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। ২০১৭ সালের নৃশংস সামরিক অভিযানের পর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ কোনো প্রকার কালক্ষেপণ বা বিভ্রান্তি মেনে নেবে না বলে ঢাকা থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।