খামারিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে সরকার: প্রতিশ্রুতি প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর।

উৎপাদিত প্রাণিসম্পদ পণ্যের সঠিক দাম না পেয়ে মাঠ পর্যায়ের খামারিরা দীর্ঘকাল ধরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সংকটময় পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকার একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বুধবার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, খামারিদের মুনাফা নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে শুরু করে মোড়কজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চূড়ান্ত বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কার্যকর ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মন্ত্রী ‘মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সুফলভোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। তিনি বলেন, “খামারিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনে সরকারিভাবে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।” এতে পণ্য দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ এবং সরাসরি বাজারে সরবরাহের প্রক্রিয়াটি সহজতর হবে।


একই অনুষ্ঠানে মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় নতুন কৌশলের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা সরকারি খাস জলাশয়গুলোকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে। এই অভয়াশ্রমগুলো শুষ্ক মৌসুমে মাছের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করবে এবং বর্ষা মৌসুমে মাছের প্রজনন ও বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের এই আধুনিকায়নে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতামূলক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকারের এই উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ের খামারিদের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।