ভিয়েতনামকে হারালেই খুলবে ইতিহাস গড়ার দুয়ার: অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে সমীকরণ মেলাতে মরিয়া বাংলাদেশ

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেলেও এখনই হাল ছাড়ছেন না বাংলাদেশের লড়াকু মেয়েরা। বরং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার এক দারুণ সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। থাইল্যান্ডের নন্থাবুরিতে আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে ভিয়েতনামের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্টের বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রুপ ‘এ’ থেকে ইতোমধ্যে শক্তিশালী চীন এবং স্বাগতিক থাইল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে লড়াকু হার এবং দ্বিতীয় ম্যাচে সাবেক চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকলেও নকআউট পর্বের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, তিন গ্রুপের মধ্যে সেরা দুই ‘তৃতীয় স্থান অর্জনকারী’ দল পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

এই গাণিতিক সমীকরণে বর্তমানে অন্য গ্রুপগুলোর তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। তিনটি গ্রুপের ছয়টি দল এখন পর্যন্ত কোনো পয়েন্ট পায়নি, কিন্তু গোল ব্যবধানে বাংলাদেশ (-৩) অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী উজবেকিস্তান (-৮) এবং চাইনিজ তাইপের (-৭) চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। ফলে ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি জয় বাংলাদেশকে সরাসরি পরের রাউন্ডে পৌঁছে দিতে পারে।

ম্যাচের আগে সোমবার (৬ এপ্রিল) কঠোর অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছে বাংলাদেশ দল। চীনের বিপক্ষে ম্যাচের ক্লান্তি দূর করতে একদিনের ‘রিকভারি’ সেশন শেষে সোমবার নিবিড় অনুশীলনে অংশ নেন ফুটবলাররা। বিশেষ করে রক্ষণভাগের ভুল ত্রুটি সংশোধন এবং আক্রমণভাগের ‘ফিনিশিং’ নিয়ে কাজ করেছেন কোচিং স্টাফরা। দলের সহকারী কোচ আবুল হোসেন মেয়েদের মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা খেলোয়াড়দের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, এটি আমাদের সেরাটা দেওয়ার সময়। তারা ম্যাচ বাই ম্যাচ উন্নতি করছে। আগের দুই ম্যাচ হারলেও তারা লড়াকু ফুটবল খেলেছে। আগামীকাল জেতার ব্যাপারে আমরা শতভাগ আত্মবিশ্বাসী।”

তিনি আরও যোগ করেন, “মেয়েদের ওপর বাড়তি কোনো ‘সাইকোলজিক্যাল প্রেশার’ দিচ্ছি না। তাদের বলা হয়েছে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে। সেরাটা দিতে পারলে ইনশাল্লাহ জয় আমাদেরই হবে।”

দলের ফরোয়ার্ড সুরভি আকন্দ প্রীতি বাফুফের মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানান, অনুশীলনে বিশেষ ‘ফিনিশিং ড্রিল’ করানো হয়েছে যাতে গোল মিসের মহড়া না হয়। তিনি বলেন, “চীন ম্যাচের ভুলগুলো আমরা আজ শুধরে নিয়েছি। দলের সবাই এখন ফিট এবং সুস্থ আছে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন আমরা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারি।” উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে দুটি গোলই করেছেন তুখোড় ফরোয়ার্ড সাগরিকা। এখন দেখার বিষয়, ভিয়েতনামের বিপক্ষে জয়ের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করে বাংলাদেশ নারী ফুটবলে নতুন কোনো কাব্য লিখতে পারে কি না।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া