চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংলিশদের নজিরবিহীন বিপর্যয়

ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ’-এর শেষ ষোলোর প্রথম লেগ শেষে এক বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ইংলিশ ফুটবল। কিছুদিন আগেই বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে ‘বিশ্বসেরা’ বলে অভিহিত করেছিলেন, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেই দাপটের লেশমাত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ড্রয়ের পর বার্সার সেই স্বস্তি এখন তর্কে পরিণত হয়েছে। কারণ, চ্যাম্পিয়নস লিগের এই পর্বে ওঠা প্রিমিয়ার লিগের ছয়টি ক্লাবের একটিও জয়ের মুখ দেখতে পারেনি; বরং তিন-তিনটি শক্তিশালী দল ৩ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিদায়ের ঘণ্টার শব্দ শুনতে শুরু করেছে।

চলতি মৌসুমে রেকর্ড সংখ্যক ৬টি ক্লাব প্রিমিয়ার লিগ থেকে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছিল। লা লিগা থেকে এসেছিল ৩টি দল। কিন্তু প্রথম লেগের লড়াই শেষে দেখা যাচ্ছে, প্রিমিয়ার লিগের প্রতিনিধিদের অবস্থা শোচনীয়। প্যারিসে পিএসজির কাছে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে চেলসি, আর মাদ্রিদে রিয়ালের গোলবন্যার মুখে ৩-০ ব্যবধানে কুপোকাত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। অন্যদিকে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে কোনোমতে মান বাঁচিয়েছে আর্সেনাল। এর আগের রাতে তুরস্কের মাটিতে গালাতাসারাইয়ের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে লিভারপুল, আতলেতিকো মাদ্রিদের হাতে ৫-২ গোলে চূর্ণ হয়েছে টটেনহাম এবং ঘরের মাঠে বার্সেলোনার সাথে ১-১ সমতায় সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে নিউক্যাসলকে।

পরিসংখ্যানের পাতায় এই রাতটি ব্রিটিশ ফুটবলের জন্য এক চরম কলঙ্ক হয়ে থাকবে। ইউরোপিয়ান কাপ বা বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম একই দিনে দুটি বড় ইংলিশ ক্লাব ৩ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে হারের স্বাদ পেল। চেলসির জন্য এটি ছিল আরও বড় লজ্জার; ২০০০ সালে বার্সেলোনার কাছে ৫ গোল হজম করার দীর্ঘ ২৬ বছর পর পুনরায় এক ম্যাচে ৫টি গোল তাদের জালে জড়াল। এই পরাজয়ের ফলে চেলসি, ম্যান সিটি এবং টটেনহামের মতো সাবেক চ্যাম্পিয়ন ও হেভিওয়েট দলগুলোর পরের পর্বে যাওয়ার আশা এখন সুতোর ওপর ঝুলছে।

ম্যানচেস্টার সিটির মাস্টারমাইন্ড পেপ গার্দিওলার জন্যও এই রাতটি ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কোচিং ক্যারিয়ারে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে ৩ গোলের ব্যবধানে হারের ঘটনাটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে কেবল ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনা এবং ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিভারপুলের বিপক্ষে এমন নিদারুণ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। লিভারপুল এখন তাকিয়ে আছে ‘অ্যানফিল্ড’ জাদুর দিকে, যেখানে গালাতাসারাইকে হারিয়ে তারা কামব্যাক করতে চায়। অন্যদিকে আর্সেনাল ড্র করে কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও লেভারকুসেনের রক্ষণ ভাঙা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মজার বিষয় হলো, লেভারকুসেন কর্তৃপক্ষ ম্যাচের আগে এক রসিকতাপূর্ণ বার্তায় জানিয়েছিল যে আর্সেনালকে তারা কোনো কর্নার নিতে দেবে না। মাঠের লড়াইয়েও দেখা গেছে তার প্রতিফলন; চলতি মৌসুমে ৪৭ ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম আর্সেনাল প্রথমার্ধে কোনো ‘কর্নার’ আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনাঢ্য ও শক্তিশালী লিগের এই চরম ভরাডুবি এখন ফুটবল মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয় লেগের ‘হোম ম্যাচ’গুলোতে নিজেদের মাঠে ইংলিশ ক্লাবগুলো এই পাহাড়সম ব্যবধান ঘুচিয়ে প্রত্যাবর্তনের কোনো কাব্য লিখতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।