ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ আয়ারল্যান্ড

ইসরায়েলের সঙ্গে আসন্ন ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) মধ্যে বাগ্‌যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনের মন্তব্যের জেরে ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর এবার কোচের পাশে দাঁড়িয়েছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন। ইসরায়েলি সংস্থার মন্তব্যকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা মার্টিন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আয়ারল্যান্ড কোচকে নিয়ে করা মন্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত। গাজায় সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বিপুল মৃত্যু ও ধ্বংসের বিষয়েও উদ্বেগ জানান তিনি এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন।

আসন্ন উয়েফা নেশনস লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে গত সপ্তাহে স্কোয়াড ঘোষণার সময় হালগ্রিমসনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে খেলোয়াড়দের কীভাবে ফুটবলে মনোযোগী রাখবেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা গণহত্যার সঙ্গে খেলছি না, আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি। আমরা ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলছি, তাদের সঙ্গে নয়।’

হালগ্রিমসনের এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি তাঁর মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতা, ভণ্ডামি ও মূর্খতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। পোস্টে ইসরায়েলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তারা ওই ধরনের ‘মূর্খতা, অজ্ঞতা ও ভণ্ডামির’ কোনো প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি।

এর জবাবে মার্টিন বলেন, ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে মৃত্যু ও ধ্বংসের মাত্রা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল; ইসরায়েল ওই ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসরায়েলের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের দুটি ম্যাচ ঘিরে দেশটির ভেতরেও বিতর্ক রয়েছে। ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। ম্যাচ দুটির আগে আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে বিভিন্ন প্রচারাভিযানকারী গোষ্ঠী।

গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) উয়েফার কাছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমর্থন মেলেনি। চলতি বছরও ইসরায়েলের সঙ্গে ম্যাচের ড্র ও নিরাপত্তা নিয়ে আয়ারল্যান্ডের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

এফএআই জানিয়েছে, ম্যাচ দুটি বাতিল করার সুযোগ সীমিত। কারণ, ম্যাচে অংশ না নিলে ক্রীড়া ও আর্থিক শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ বর্জন করলে প্রতিযোগিতামূলক ও আর্থিক পরিণতি হতে পারে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে দুটি ম্যাচই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করা হচ্ছে। ২৭ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক হোম ম্যাচ হলেও হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হবে। আর ৪ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের নির্ধারিত হোম ম্যাচটি ডাবলিনের অ্যাভিভা স্টেডিয়ামের পরিবর্তে সার্বিয়ার বাক্কা টোপোলায় নেওয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনের প্রতি আয়ারল্যান্ডের সমর্থন দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালে স্পেন ও নরওয়ের সঙ্গে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। গাজা যুদ্ধের সময়ও ডাবলিন ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এসেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।

জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ জুন পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজার ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো।

গাজায় সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হলেও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে আসছে। দেশটির বক্তব্য, হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের অংশ। অন্যদিকে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে যা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।