টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন আসরে দাপুটে এবং একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে গতবারের রানার্সআপ দক্ষিণ আফ্রিকা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে নবাগত কানাডাকে ৫৭ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে প্রোটিয়ারা। মূলত অধিনায়ক এইডেন মার্করামের বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং পেসার লুঙ্গি এনগিডির তোপ দাগানো বোলিংয়ের সামনে পাত্তাই পায়নি উত্তর আমেরিকার দেশটি। এই জয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্টে আসরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে।
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় কানাডা। তবে তাদের সেই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। উদ্বোধনী জুটিতে কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটন মাত্র ৭ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৭০ রান যোগ করে ঝোড়ো সূচনা করেন। ডি কক ২৫ রানে বিদায় নিলেও এরপর ক্রিজে এসে রীতিমতো ঝড় তোলেন অধিনায়ক মার্করাম। মাত্র ২৮ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করা এই ব্যাটার ৩২ বলে ৫৯ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন, যা সাজানো ছিল ১০টি চার ও ১টি নান্দনিক ছক্কায়। মাঝপথে আনশ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে ১৩৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়ারা কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ দিকে ডেভিড মিলার (২৩ বলে ৩৯ রান) এবং ট্রিস্টান স্টাবস (১৯ বলে ৩৪ রান) মাত্র ৩৯ বলে ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৩ রানের হিমালয়সম সংগ্রহ এনে দেন। কানাডার পক্ষে আনশ প্যাটেল ৩১ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন।
২১৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার লুঙ্গি এনগিডির গতির সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে কানাডার টপ অর্ডার। দলীয় মাত্র ৪৫ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। এনগিডি তাঁর প্রথম দুই ওভারেই তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। বিপর্যয়ের মুখে নভনীত ঢালিওয়াল এবং হার্শ ঠাকের ৬৯ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। ঢালিওয়াল ৪৯ বলে ৬৪ রানের একটি বীরত্বগাথা ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সঙ্গ পাননি। ঠাকের ২৯ বলে ৩৩ রান করে আউট হলে কানাডার ইনিংসের চাকা কার্যত স্থিমিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানেই থেমে যায় কানাডার লড়াই।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে লুঙ্গি এনগিডি ৪ ওভারে মাত্র ৩১ রান খরচায় ৪টি উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। এছাড়া বাঁহাতি পেসার মার্কো জানসেন ১৮তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে কানাডার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। এই জয়ে পূর্ণ ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে মজবুত অবস্থান করে নিল গতবারের রানার্সআপরা। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, গত বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের ক্ষত ভুলে এই দাপুটে জয় প্রোটিয়াদের শিরোপা জয়ের পথে বড় মানসিক অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।