"বাবর-শাহীন-শাদাবকে দল থেকে ছেঁটে ফেলুন": ভারতের কাছে হারের পর চরম মেজাজ হারালেন শহীদ আফ্রিদি

"বাবর-শাহীন-শাদাবকে দল থেকে ছেঁটে ফেলুন": ভারতের কাছে হারের পর চরম মেজাজ হারালেন শহীদ আফ্রিদি

শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পাকিস্তানের শোচনীয় পরাজয় যেন দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে এক বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। দলের এমন ছন্দহীন পারফরম্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিনিয়র খেলোয়াড়দের খেই হারিয়ে ফেলা মেনে নিতে পারছেন না পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি দল নির্বাচন নিয়ে এক আমূল পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। আফ্রিদি সরাসরি জানিয়েছেন, বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে বাবর আজম, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও শাদাব খানের মতো সিনিয়র ত্রয়ীকে একাদশ থেকে বাদ দিয়ে বেঞ্চে থাকা তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া উচিত।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শহীদ আফ্রিদি তাঁর ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমার হাতে যদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতো, তবে আমি শাহীন, বাবর ও শাদাব—এই তিনজনকেই পরবর্তী ম্যাচে বসিয়ে দিতাম। একই খেলোয়াড়দের বারবার ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ দিয়ে লাভ কী, যদি তারা বড় ম্যাচে দলের হাল ধরতে না পারে? তার চেয়ে নতুন ছেলেদের মাঠে নামিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’ সাবেক এই অলরাউন্ডারের মতে, এই সিনিয়ররা দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় দলে খেললেও চাপের মুখে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের বিপক্ষে ১৭৬ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দলের ব্যাটিং মেরুদণ্ড আবারও ভেঙে পড়ে। অধিনায়ক বাবর আজম সাত বল ক্রিজে টিকে থেকে মাত্র ৫ রান করে আউট হন। বড় মঞ্চে এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাবরের এমন নিয়মিত ব্যর্থতা নিয়ে ক্রিকেট বোদ্ধাদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বল হাতেও চিত্রটা ছিল করুণ; বিশেষ করে শাহীন শাহ আফ্রিদি এদিন ছিলেন অত্যন্ত খরুচে। মাত্র ২ ওভার বোলিং করে তিনি ৩১ রান খরচ করেন, যার দুটি ওভারেই ১৬ করে রান দিয়েছেন তিনি। শাহীনের এই ছন্নছাড়া বোলিংয়ের কারণেই মূলত ভারতের ইনিংস শেষ দিকে এক বিশাল সংগ্রহের ভিত পায়।

অন্যদিকে, অলরাউন্ডার শাদাব খানও ম্যাচে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেননি। বোলিংয়ে এসে মাত্র এক ওভারেই তিনি ১৭ রান বিলিয়ে দেন, যা পাকিস্তানের ওপর চাপের পাহাড় তৈরি করে। পরবর্তীতে ব্যাট হাতেও তিনি দলের প্রয়োজনে ঝড় তুলতে ব্যর্থ হন; তাঁর ধীরগতির ১৪ রানের ইনিংসটি জয়ের সমীকরণকে আরও জটিল করে তোলে। শহীদ আফ্রিদির মতে, যেখানে দলের জুনিয়ররা ড্রেসিংরুমে বসে অপেক্ষা করছে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে পারফর্ম না করা সিনিয়রদের বয়ে বেড়ানোর কোনো মানে হয় না। পাকিস্তানের ক্রিকেটে এই ‘সার্জারি’ বা বড় পরিবর্তনের আওয়াজ এখন কেবল আফ্রিদির কণ্ঠেই নয়, বরং দেশটির সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।