সুইডিশ তনয়ার হাত ধরে এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশ

সুইডিশ তনয়ার হাত ধরে এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশ

আসন্ন মার্চে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বসতে যাচ্ছে এশিয়ান কাপ নারী ফুটবলের মহারণ। এই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইকে সামনে রেখে লাল-সবুজের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রস্তুত করেছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার। যদিও বাফুফের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা এবং সহায়ক স্টাফসহ মোট ৩৮ জনের বিশাল বহরের নাম এখন ফুটবল প্রেমীদের মুখে মুখে।

এবারের স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমকের নাম আনিকা রানিয়া সিদ্দিকি। সুইডেন প্রবাসী এই ফুটবলারকে নিয়ে দেশের ফুটবল অঙ্গনে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন। অভিযোগ রয়েছে যে, আনিকা দীর্ঘ এক বছর কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকলেও কেবল কয়েক দিনের ‘ফিটনেস ট্রেনিং’-এর ওপর ভিত্তি করেই তাঁকে অস্ট্রেলিয়ার টিকিট দিয়েছেন বাটলার। যেখানে অভিজ্ঞ সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন কিংবা কৃষ্ণা রানী সরকারের মতো তারকাদের ফিটনেস ক্যাম্পে ডাকারও প্রয়োজন মনে করেননি কোচ, সেখানে আনিকার সরাসরি অন্তর্ভুক্তি দেশের ফুটবল সংশ্লিষ্টদের অবাক করেছে। এমনকি সাফ ফুটসালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সেখান থেকেও কোনো নতুন ফুটবলারকে এশিয়া কাপের জন্য বিবেচনায় নেননি এই ইংলিশ কোচ।

বাফুফে সূত্র বলছে, ঢাকায় নারী ফুটবল লিগ চলাকালীন আনিকা কোচের সাথে দেখা করলে তাঁকে সরাসরি অনুশীলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কয়েক দিনের ফিটনেস সেশন শেষ করে তিনি সুইডেন ফিরে গেলেও চূড়ান্ত দলে তাঁর নাম রাখা হয়েছে। আনিকা ছাড়াও জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন সৌরভী আফরিন এবং আলপি আক্তার। তরুণ ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া এই দলে গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন মিলি আক্তার, রুপনা চাকমা ও স্বর্ণা রানী মন্ডল। আক্রমণ ও মাঝমাঠের শক্তি বাড়াতে দলে আছেন ঋতুপর্ণা চাকমা, তহুরা খাতুন, মারিয়া মান্ডা ও সাগরিকার মতো নিয়মিত পারফর্মাররা।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থের মাঠে টাইগ্রেসদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে ৩ মার্চ সিডনিতে চীনের বিপক্ষে শুরু হবে বাংলাদেশের যাত্রা। এরপর ৬ মার্চ একই ভেন্যুতে উত্তর কোরিয়ার শক্ত বাধা টপকাতে হবে মারিয়া-তহুরাদের। গ্রুপের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৯ মার্চ পার্থে, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে উজবেকিস্তান।

কোচ পিটার জেমস বাটলারের সাথে ম্যানেজমেন্টে থাকছেন ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমী, সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান লিটু ও মাহমুদা আক্তার এবং গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ। এছাড়াও দলের সাথে থাকছেন স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ ক্যামেরুন নিকোলাস লর্ডসহ অভিজ্ঞ একটি মেডিকেল ও টেকনিক্যাল টিম। এখন দেখার বিষয়, বড় তারকাদের ছাড়াই এই ‘নতুন’ বাংলাদেশ এশিয়ার কঠিন মঞ্চে কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।