বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র নেইমার জুনিয়র কি আবারও ব্রাজিলের সেই চিরচেনা হলুদ জার্সিতে মাঠ মাতাতে চলেছেন? ফুটবল বিশ্বের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখন সমাধানের পথে। দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে এবং জাতীয় দলের বাইরে লম্বা বিরতির পর অবশেষে ব্রাজিলের ‘সেলেসাও’ শিবিরে ফেরার এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে নেইমারের সামনে। কোচ কার্লো আনচেলত্তির করা প্রাথমিক তালিকায় এই তারকার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, চূড়ান্ত স্কোয়াডে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে নেইমারকে এখন এক কঠিন ‘ফিটনেস’ ও দক্ষতার অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার (১৬ মার্চ) ফ্রান্সের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ফ্রেন্ডলি ম্যাচের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া নেইমারের জন্য কেবল একটি মাইলফলক নয়, বরং জাতীয় দলে নিজের হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধারের এক চ্যালেঞ্জ। পিএসজি ও বার্সেলোনার সাবেক এই জাদুকর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলেও, সম্প্রতি নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে যে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করছেন, তা বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির নজর কেড়েছে। তবে আনচেলত্তি কোনো ধরণের আবেগের বশবর্তী না হয়ে বরং বাস্তব প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে চান।
বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো নেটওয়ার্ক’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনচেলত্তি বর্তমানে নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা ও খেলার মান অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। নেইমার জাতীয় দলের হয়ে ৯ কি না, তা যাচাই করতে কোচ স্বয়ং বুধবার সকালে সান্তোস বনাম মিরাসোলের মধ্যকার ম্যাচটি সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখবেন। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার (১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল) জন্য এই ম্যাচটি আক্ষরিক অর্থেই এক ‘লিটমাস টেস্ট’, যেখানে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের তীব্র গতি আর শারীরিক লড়াইয়ের জন্য শতভাগ প্রস্তুত।
সামনে আসছে গ্রীষ্মকালীন বিশ্বকাপের মহারণ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাসাচুসেটসের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রস্তুতি ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফরাসিদের জমাট রক্ষণ ভাঙতে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ও সৃজনশীল ফুটবলারের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন আনচেলত্তিও। কিন্তু দলের ভারসাম্য রক্ষায় তিনি কোনো ‘আনফিট’ খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে রেখে ঝুঁকি নিতে নারাজ। ফলে নেইমারের জন্য বুধবারের সকালটি হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নেইমার ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন বুধবারের সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচের জন্য। সান্তোসের সাদা পোশাকে নেইমার যদি তাঁর চিরচেনা ছন্দ আর জাদুকরী ড্রিবলিং দিয়ে কোচের মন জয় করতে পারেন, তবে সোমবারের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম থাকা প্রায় নিশ্চিত। এখন কেবল দেখার বিষয়, চাপের মুখে নেইমার আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সেলেসাওদের মূল দলে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন কি না।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।