"বলি একটা, লেখে আরেকটা" সাক্ষাৎকার দিতে নারাজ রবি চৌধুরী; বিতর্ক কি থামবে?

বিচ্ছেদের দীর্ঘ এক দশক পর সাবেক স্ত্রী ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। ব্যক্তিগত জীবন ও পরকীয়া সংক্রান্ত তাঁর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে এবার এক বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই গায়ক; তিনি জানিয়েছেন, আপাতত আর কোনো সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউ দেবেন না।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় রবি চৌধুরী তাঁর এই অনীহার কথা স্পষ্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘কিছুদিনের জন্য ইন্টারভিউ থেকে বিরত থাকতে চাই, কারণ বলি একটা লিখে আরেকটা, ভালো থাকবেন সবাই।’ মূলত তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা বা কাটছাঁট করে উপস্থাপনের কারণেই তিনি সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সেখানে রবি চৌধুরী দাবি করেন, তাঁদের সংসার ভাঙার পেছনে ডলি সায়ন্তনীর পরকীয়া দায়ী ছিল। তিনি ‘বিপ্লব’ নামের এক গাড়িচালকের সঙ্গে ডলির সম্পর্কের অভিযোগ তুলে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে ডলির পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে ডলির ফোনে তাঁর নম্বর ‘দুলাভাই’ নামে সেভ করা ছিল। রবির এমন মন্তব্যের পর ডলি সায়ন্তনী পাল্টা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে একে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক’ বলে আখ্যা দেন। ডলি স্পষ্ট করে জানান যে, ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ তিনি নিজেই দিয়েছিলেন এবং সে সময় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন।

বিচ্ছেদের এত বছর পর কেন রবি চৌধুরী পুনরায় এই পুরোনো কাসুন্দি ঘাটছেন, তা নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই রবির এই আচরণকে ‘অপেশাদার’ বলে মন্তব্য করেছেন। একদিকে ডলি সায়ন্তনী পুরো বিষয়টি আইনি পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছেন, অন্যদিকে রবি চৌধুরী নিজেকে সকল আলাপ-আলোচনা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সংগীত জগতের এই দুই প্রবীণ তারকার মধ্যকার এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।