গ্ল্যামার জগতের আড়ালে ১০০ কোটির সোনা পাচার: অভিনেত্রী রান্যা রাওয়ের বিরুদ্ধে এবার বিস্ফোরক চার্জশিট!

ভারতের কর্নাটক রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচাইতে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ‘শত কোটি রুপির সোনা পাচার’ মামলায় কন্নড় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রান্যা রাওয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর বিশেষ অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেয়। গ্ল্যামার জগতের এক পরিচিত মুখের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো ভারতের বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, গত এক বছরে রান্যা রাও এবং তাঁর সুসংগঠিত চক্রটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ১২৭ কিলোগ্রামের বেশি সোনা দুবাই থেকে ভারতে পাচার করেছে। পাচার করা এই বিপুল পরিমাণ সোনা দুবাই থেকে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হতো। পরবর্তীতে স্থানীয় বাজারের শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট এবং নির্দিষ্ট কিছু সোনা ব্যবসায়ীর মাধ্যমে তা বিক্রি করা হতো। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। চার্জশিটে রান্যা রাও ছাড়াও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তরুণ কোন্ডুরু এবং কর্নাটকের বেল্লারি এলাকার সোনা ব্যবসায়ী সাহিল সাকারিয়া জৈনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, পাচার করা সোনা মূলত নগদ টাকায় বিক্রি করা হতো এবং সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ ‘হাওয়ালা’ চ্যানেলের মাধ্যমে দেশের ভেতরে ও বাইরে সমন্বয় করা হতো। ৩৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী রান্যা রাও আবার কর্নাটকের এক জ্যেষ্ঠ আইপিএস (IPS) কর্মকর্তার সৎ কন্যা। গত বছর বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে তাঁকে সোনা পাচারের সময় হাতেনাতে আটক করার মাধ্যমেই এই বিশাল চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, সে সময় রান্যা দুবাই থেকে ফিরছিলেন। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ দুবাই সফর, যা শুল্ক গোয়েন্দাদের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করে। গোয়েন্দারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১৪ দশমিক ২ কিলোগ্রাম সোনা উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত সোনার একটি বড় অংশ তিনি শরীরে অলঙ্কার হিসেবে পরেছিলেন এবং বাকি অংশ সুকৌশলে তাঁর পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ছিল। বিমানবন্দরের ‘এক্সিট’ বা বেরোনোর দরজার ঠিক কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই তাঁকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে ২ কোটি ৬ লাখ রুপির স্বর্ণালঙ্কার এবং ২ কোটি ৬৭ লাখ রুপির নগদ ভারতীয় মুদ্রা জব্দ করেন তদন্তকারীরা।

ইডি-র দাবি, রান্যা রাও প্রতিটি কিলোগ্রাম সোনা পাচারের বিনিময়ে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত ‘কমিশন’ পেতেন। এই কমিশনের লেনদেন হতো সম্পূর্ণ নগদে। এর আগে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) এই মামলায় রান্যা রাওয়ের বিরুদ্ধে ১০২ কোটি রুপি জরিমানা ধার্য করেছিল। কিন্তু পাচারের অর্থের উৎস এবং এর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে ইডি আলাদাভাবে মানি লন্ডারিং তদন্ত শুরু করে, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন এই চার্জশিট।

বর্তমানে রান্যা রাও বেঙ্গালুরু কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আদালতের এই চার্জশিট গ্রহণের মাধ্যমে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার নতুন ধাপে প্রবেশ করল। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সোনা পাচারের এই আন্তর্জাতিক চক্রে চলচ্চিত্র জগতের এই অভিনেত্রীর ভূমিকা ঠিক কতটা গভীর ছিল, তা এখন আদালতের কাঠগড়ায় প্রমাণিত হবে। আপাতত এই শতকোটি টাকার পাচার কাণ্ডের নেপথ্য নায়কদের বিচার দেখার অপেক্ষায় পুরো কর্নাটক।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।