অস্কারের মঞ্চে বড় দুঃসংবাদ! মনোনয়ন পেলেও কেন নিষিদ্ধ হলেন ফিলিস্তিনি এই অভিনেতা?

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ আসর একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের মঞ্চে এবার ফিলিস্তিনের এক বিষণ্ণ আর্তি পৌঁছালেও, সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না সেই গল্পের অন্যতম রূপকার। এবারের অস্কারে ‘সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ সিনেমাটি। তবে একরাশ হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে ছবির প্রধান অভিনেতা মোতাজ মালহিস জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁর আর অস্কারের লাল গালিচায় হাঁটা হচ্ছে না।

গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন মোতাজ মালহিস। তিনি জানান, ফিলিস্তিনি নাগরিক হওয়ার কারণে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথিপত্র ব্যবহার করার ফলে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ভিসা’ বা অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিশ্বের সবচাইতে বড় চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে নিজের কাজের স্বীকৃতি উদযাপন করতে না পারাটাকে জীবনের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখছেন এই অভিনেতা।

সিনেমার প্রেক্ষাপটটি গড়ে উঠেছে ২০২৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় নিহত পাঁচ বছর বয়সী ছোট্ট শিশু হিন্দ রজবকে কেন্দ্র করে। সারা বিশ্বের বিবেক নাড়িয়ে দেওয়া সেই লোমহর্ষক বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। সিনেমায় মোতাজ মালহিস একজন জরুরি সেবা কেন্দ্রের কল সেন্টার অপারেটরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি রণক্ষেত্রে আটকা পড়া অসহায় ছোট্ট হিন্দকে উদ্ধারে ফোনের ওপাশ থেকে নিরন্তর ও রুদ্ধশ্বাস চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শিল্প আর বাস্তবতার এই অপূর্ব মিশেলে সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে সমালোচকদের উচ্চ প্রশংসা কুড়ালেও রাজনীতির মারপ্যাঁচে ব্রাত্য রয়ে গেলেন এর কুশীলবরা।

উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন নিরাপত্তার অজুহাতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর কঠোর ‘ট্রাভেল ব্যান’ বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই আদেশের আওতায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা নথিপত্র ব্যবহারকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সেই প্রশাসনিক আদেশের খড়গ এবার শিল্পের মঞ্চেও গিয়ে পড়ল। যদিও মোতাজের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা ‘স্টেট ডিপার্টমেন্ট’ এখন পর্যন্ত দাপ্তরিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে এই ঘটনাটি হলিউডসহ সারা বিশ্বের মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিল্পের সীমানা যেখানে উদার হওয়ার কথা, সেখানে ভূ-রাজনীতির এই দেয়াল এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।