বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে আপত্তিকর ছবি তোলার চেষ্টা এবং প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিনই জামিন পেয়েছেন বিতর্কিত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ উভয় পক্ষের মধ্যে আপসের শর্তে এই জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর নিজের ভুল স্বীকার করলেও নোবেল যে তাঁর স্বভাবজাত বেপরোয়া আচরণ থেকে সরে আসেননি, তা তাঁর পরবর্তী মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গণমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, ‘আমার দর্শক-শ্রোতারা আমাকে ভালো করে বোঝে, আমি হালকা পাগলা পাগলা আছি। তারা আমাকে ক্ষমা করে দেবে। মানুষ মাত্রই ভুল। আমারও ভুল হয়েছে। আবারও হইতে পারে।’ নোবেলের এমন ‘বেপরোয়া’ বক্তব্য নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মামলার নথিপত্র এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে, আনাননিয়া শবনম রোজ নামের এক নারীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন নোবেল। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ওই তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী আদালতের দ্বারস্থ হলে পিবিআইকে (PBI) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান নোবেলসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এই মামলায় প্রধান আসামি নোবেলের পাশাপাশি তাঁর মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, ব্যক্তিগত সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং পরিচিত মাসুম রানাকেও আসামি করা হয়েছে। আইনগতভাবে আপসের শর্তে জামিন পেলেও নোবেলের এই ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং জামিন পরবর্তী মন্তব্য তাঁর ক্যারিয়ার ও ভাবমূর্তিকে আবারও সংকটের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।