৮-০ গোলের জয়ও বাঁচাতে পারল না চাকরি; চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী কোচকে বরখাস্ত করল ফ্লামেঙ্গো

ফুটবল বিশ্বের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী সাধারণত বড় হারের পর কোনো কোচের বিদায়ঘণ্টা বাজে। তবে এবার ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে দেখা গেল এক সম্পূর্ণ বিপরীত ও বিরল চিত্র। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে চূর্ণ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই চাকরি হারালেন ফ্লামেঙ্গোর প্রধান কোচ ফেলিপে লুইস। কোনো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন দাপুটে জয়ের পর যখন পুরো দল ফাইনালের প্রস্তুতি নিয়ে উৎসবে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই লুইসকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

ফেলিপে লুইস কেবল একজন সাধারণ কোচ ছিলেন না, বরং গত মৌসুমে ফ্লামেঙ্গোকে লাতিন আমেরিকার সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ‘কোপা লিবার্তাদোরেস’ (যা লাতিন ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’ নামে পরিচিত) জিতিয়েছিলেন তিনি। তাঁর জাদুকরী নেতৃত্বেই ঘরোয়া লিগ শিরোপাও ঘরে তুলেছিল ক্লাবটি। গত মৌসুমের সেই আকাশচুম্বী সাফল্যের নায়ক হওয়া সত্ত্বেও ২০২৬ মৌসুমের শুরু থেকেই ভাগ্যের চাকা তাঁর বিপক্ষে ঘুরতে শুরু করে। একের পর এক শিরোপা হাতছাড়া হওয়া এবং লিগ টেবিলে বিপর্যয়ের কারণেই মূলত ক্লাবের নীতিনির্ধারকরা এই কঠোর ও নির্মম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

চলতি ২০২৬ মৌসুমে ফ্লামেঙ্গোর শুরুটা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। করিন্থিয়ান্সের কাছে ‘সুপারকোপা দো ব্রাজিল’ হাতছাড়া করার পর আর্জেন্টাইন ক্লাব লানুসের কাছে হেরে ‘রেকোপা সুল-আমেরিকানা’র শিরোপাও হারায় লুইসের শিষ্যরা। এছাড়া ব্রাজিলিয়ান ‘সিরি’আ’ লিগে বর্তমানে ১১ নম্বরে অবস্থান করছে দলটি, যা ক্লাবটির ঐতিহ্যের সাথে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এমনকি রাজ্য ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অবনমন ‘প্লে-অফ’-এর শঙ্কায় পড়ে যাওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মারাকানা স্টেডিয়ামে লানুসের বিপক্ষে হারের পর দর্শকদের সরাসরি কটূক্তি ও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন লুইস, যা তাঁর বিদায়ের পথকে ত্বরান্বিত করেছে।

ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ফেলিপে লুইসের পাশাপাশি তাঁর সহকারী কোচ ইভান পালানকো এবং ফিটনেস কোচ দিয়োগো লিনহারেসকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে ক্লাবের সাফল্যে তাঁদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এবং তাঁর পরবর্তী পেশাদার পথচলার জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করা হয়েছে। ৮-০ গোলের সেই মহাজয় হয়তো লুইসের ক্যারিয়ারে একটি রঙিন স্মৃতি হয়ে থাকবে, কিন্তু ফ্লামেঙ্গোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাঁর জায়গা আর অবশিষ্ট রইল না।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।