চেক বাউন্স মামলায় শেষ পর্যন্ত তিহার জেলেই যেতে হলো রাজপাল যাদবকে!

চেক বাউন্স মামলায় শেষ পর্যন্ত তিহার জেলেই যেতে হলো রাজপাল যাদবকে!

পর্দার সামনে যাঁর একেকটি সংলাপে দর্শকরা হাসিতে ফেটে পড়তেন, সেই বলিউড তারকা রাজপাল যাদবের বাস্তব জীবন এখন বিষাদে আচ্ছন্ন। দীর্ঘ দেড় দশকের এক ক্লান্তিকর আইনি লড়াই শেষে মুক্তি মেলেনি তাঁর; বরং আত্মসমর্পণ করেও শেষ রক্ষা হলো না। চেক বাউন্স সংক্রান্ত এক জটিল মামলায় অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় দিল্লির আদালত তাঁকে বিখ্যাত তিহার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি রাজপাল যাদব চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রায় ১৫ বছর আগে, ২০১০ সালে। রাজপাল যাদব তাঁর নিজের পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বড় বাজেটের এই ছবির জন্য তিনি দিল্লিভিত্তিক ‘মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। তবে ছবিটি বক্স অফিসে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে শুরু হয় রাজপালের পতনের অধ্যায়। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাধা যাদব যে সাতটি চেক দিয়েছিলেন, সেগুলো ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর বাউন্স হয়। এরপরই বিষয়টি গড়ায় আদালতে। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ২০১৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট তাঁকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়, যা পরবর্তী উচ্চতর আদালতগুলোতেও বহাল থাকে।

মাঝপথে ২০২৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে একবার সুযোগ দিয়েছিল। শর্ত ছিল, ঋণের সুদসহ প্রায় ৯ কোটি রুপির বকেয়া পরিশোধে তিনি আন্তরিক উদ্যোগ দেখাবেন। কিন্তু রাজপাল যাদব আদালতের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হন। ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ তিনি ৭৫ লাখ রুপি জমা দিলেও পরবর্তী কিস্তির প্রতিশ্রুতিগুলো বারবার রক্ষা করতে পারেননি। সর্বশেষ গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁর পক্ষ থেকে করা সময় বাড়ানোর আবেদন অর্থাৎ ‘মার্সি প্লি’ আদালত সটান খারিজ করে দেন। আদালত মন্তব্য করেন, অভিনেতা ও পরিচালক বারবার আইনি নির্দেশ অমান্য করে সময়ক্ষেপণ করেছেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর আইনজীবীরা তড়িঘড়ি করে নতুন একটি ২৫ লাখ রুপির চেক এবং টাকা পরিশোধের নতুন সূচি জমা দিলেও বিচারকের মন গলেনি। শেষ পর্যন্ত ওই দিন বিকেল ৪টায় তিহার কারাগারে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন রাজপাল যাদব। ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘চুপ চুপ কে’ বা ‘ফির হেরা ফেরি’র মতো অসংখ্য সুপারহিট ছবির মাধ্যমে কোটি ভক্তের মনে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতার এখনকার বাস্তব জীবনটি কোনো ট্র্যাজেডি ফিল্মের চেয়ে কম নয়। ৬ মাসের সাজা মাথায় নিয়ে আপাতত কারাপ্রকোষ্ঠেই কাটবে তাঁর দিনকাল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।