বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বৃহত্তম রণক্ষেত্র আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম আজ কাঁপছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মহারণের মহাউত্তেজনায়। দেড় শ কোটি মানুষের পাহাড়সম প্রত্যাশা নিয়ে আজ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। হাই-ভোল্টেজ এই ফাইনাল ম্যাচের আগে ভারতীয় শিবিরের অন্দরমহলের চিত্রটি কেমন? ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এক চমৎকার রসিকতার মাধ্যমে দলের সেই আত্মবিশ্বাসী মেজাজটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। সূর্য জানিয়েছেন, দলের আবহ এতটাই ইতিবাচক ও লড়াকু যে, সুযোগ থাকলে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর নিজেই প্যাড পরে ব্যাটিং করতে মাঠে নেমে পড়তেন!
ফাইনালে ভারতকে নিউজিল্যান্ডের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তবে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে এখন উত্তেজনার চেয়েও বেশি কাজ করছে জয়ের তীব্র ক্ষুধা। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব প্রাক-ফাইনাল সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীরের রণকৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, “গম্ভীর ভাই নিজেই একজন ফাইনাল বিশেষজ্ঞ। তিনি এর আগেও ফাইনালে খেলেছেন এবং ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেটের প্রতি প্যাশন এতটাই বেশি যে, তিনি প্রতিটি বল দলের সাথে অনুভব করেন।” উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে এই আহমেদাবাদের মাটিতেই ৯৭ রানের সেই মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন গম্ভীর, যা ভারতকে বিশ্বজয়ের স্বাদ দিয়েছিল।
সূর্যকুমারের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, গম্ভীর ভারতীয় দলের পুরনো সংস্কৃতিতে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছেন। এখন দলের ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগত কোনো মাইলফলক বা রেকর্ডের পেছনে ছোটেন না। বরং ড্রেসিংরুমে এখন একে অপরকে সাহায্য করার এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবদান রাখার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। সূর্য উদাহরণ হিসেবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তিলক বর্মার ৭ বলে ১৮ রানের ‘ক্যামিও’ ইনিংসটির কথা মনে করিয়ে দেন। তাঁর মতে, গম্ভীরের কোচিংয়ে এ ধরণের ছোট ছোট ইনিংসগুলো এখন হাফসেঞ্চুরি বা সেঞ্চুরির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পায়। দলের মূল মন্ত্র হলো—যদি প্রথম বলেই ছক্কা মারার প্রয়োজন হয়, তবে উইকেটে থিতু হওয়ার কথা না ভেবে সেটাই করতে হবে। আবার পরিস্থিতির প্রয়োজনে রক্ষণাত্মক হতে হলেও পিছিয়ে যাওয়া চলবে না।
অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমারের ক্যারিয়ারের প্রথম বড় ফাইনাল এটি। এর আগে মহেন্দ্র সিং ধোনি বা রোহিত শর্মার হাত ধরে ভারত ফাইনালে লড়লেও, এবার নেতৃত্বে এক নতুন সূর্য। ঘরের মাঠে এক লাখের বেশি দর্শকের সামনে নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে কি কোনো স্নায়ুচাপ বা ‘নার্ভাসনেস’ কাজ করছে? সূর্য অকপটে স্বীকার করলেন, “স্নায়ুচাপ তো অবশ্যই আছে। একটু চিন্তা যে নেই, তা বলবো না। তবে আমি বিশ্বাস করি, চাপ না থাকলে খেলার মধ্যে কোনো মজাই থাকে না। আমরা এই মুহূর্তটি উপভোগ করার জন্য মুখিয়ে আছি।”
২০২৩ সালে এই আহমেদাবাদেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা হারানোর দগদগে ক্ষত এখনও ভারতীয় সমর্থকদের মনে তাজা। আজ কিউইদের বিপক্ষে জয় পেলে সেই বিষাদ অনেকটাই মুছে যাবে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গম্ভীরের আগ্রাসী মাস্টারপ্ল্যান আর সূর্যের মাঠের ক্যারিশমা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ভারত কি পারবে নিজেদের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে? উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।