অস্ট্রেলিয়ার পার্থে আজ এক নতুন ইতিহাস রচনার স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সিডনির অলিম্পিক স্টেডিয়ামে যখন ৬০ হাজার দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত হচ্ছে, ঠিক তখনই পার্থের রেক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নামছে লাল-সবুজ বাহিনী। বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার বেলা তিনটায় এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে ৬৩ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ম্যাচটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে বাংলাদেশের নিজেদের প্রমাণের চূড়ান্ত পরীক্ষা।
তবে বাংলাদেশের এই নক-আউট পর্বে ওঠার স্বপ্নযাত্রায় বড় এক কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে গাণিতিক সমীকরণ এবং গত রাতে ইরানের বিপক্ষে ফিলিপাইনের ২-০ গোলের জয়। ‘এ’ গ্রুপে ফিলিপাইন ৩ পয়েন্ট এবং -২ গোল ব্যবধান নিয়ে সেরা তৃতীয় দল হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে, ‘বি’ গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সাতটি গোল হজম করায় বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটি এখন পাহাড়সম কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ উজবেকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারলে এবং ‘সি’ গ্রুপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত অলৌকিক কিছু ঘটে এবং টাইগ্রেসরা শেষ আটে পা রাখতে পারে, তবে সেটি হবে এশিয়ান ফুটবলের সবচাইতে বড় চমক।
গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশ শিবিরের আবহাওয়া বেশ ফুরফুরে। প্রধান কোচ পিটার বাটলার এবং অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার গতকালকের সংবাদ সম্মেলনে বেশ নির্ভার ছিলেন। আফঈদা স্পষ্ট জানিয়েছেন, হারানোর কিছু নেই বলেই তাঁরা মাঠে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে চান। তিনি বলেন, “আমরা প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করেছি এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি, এটাই আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়। শেষ ম্যাচে আমাদের লক্ষ্য থাকবে ইতিবাচক ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে আনা।”
প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান শারীরিক শক্তিতে বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও তাদের গতি কিছুটা কম। মারিয়া মাণ্ডা ও মনিকা চাকমাদের ক্ষিপ্র গতিই আজ বাংলাদেশের তুরুপের তাস হতে পারে। বিশেষ করে উজবেক শিবিরে ইনজুরি ও নিষেধাজ্ঞার সমস্যা টাইগারদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাদের প্রধান গোলরক্ষক আহত হওয়ায় আজ তিনি মাঠের বাইরে থাকতে পারেন। উজবেকিস্তানের কোচ কত্রিনা কুলবাইতে বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভার প্রশংসা করে বলেছেন, “বাংলাদেশের ১৯ বছর বয়সী ফুটবলারদের পারফরম্যান্স সত্যিই চমৎকার। তাদের গোল করার সামর্থ্য আছে এবং বিশেষ করে ঋতুপর্ণা ও মনিকাদের গতি আমাদের রক্ষণভাগের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।”
কোচ পিটার বাটলার এই পুরো টুর্নামেন্টকে একটি বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন। দলের গড় বয়স মাত্র সাড়ে ১৯ বছর হওয়ায় তিনি ভবিষ্যতের এক শক্তিশালী দল গড়ার ওপর জোর দিচ্ছেন। চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হার থেকে অর্জিত ‘কঠিন অভিজ্ঞতা’ আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চান তিনি। সিডনির সেই স্বপ্নিল গ্যালারিতে পুনরায় ফেরার জন্য আজ পার্থের মাঠে লাল-সবুজের মেয়েরা এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে মনিকাদের পা থেকে আসা জাদুকরী কোনো গোলের অপেক্ষায়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।