বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও মায়াবী শহর নিউ ইয়র্ক। যে শহর অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো রঙিন, আবার অনেকের কাছে এক নিষ্ঠুর বাস্তবতার নাম। বিদেশের এই কর্মব্যস্ত ও প্রতিকূল জীবনে এক বুক আশা নিয়ে দেশ থেকে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে আসেন এক যুবক। কিন্তু স্বপ্নভঙ্গের বেদনা শুরু হয় তখনই, যখন নিয়ন আলোর এই শহরে এসে স্বামীকেই পর করে দেন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী। একের পর এক ভয়াবহ প্রতারণা আর বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে শুরু হয় এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক খেলা। এমনই এক রোমহর্ষক ও জীবনমুখী গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিশেষ টেলিছবি ‘ফ্রেমে বাঁধা বন্ধুত্ব’।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী গুণী নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল এই টেলিছবিটির মাধ্যমে প্রবাস জীবনের এক অন্ধকার দিক ক্যামেরাবন্দি করেছেন। গল্পের এক পিঠে যেমন রয়েছে আপনজনের চরম বিশ্বাসঘাতকতা, অন্য পিঠে রয়েছে নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যেখানে দেখা যায়, চরম বিপদে পড়া এক বন্ধুকে নিউ ইয়র্কের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার লড়াই এবং ব্যবসার খুঁটিনাটি শিখিয়ে আক্ষরিক অর্থেই টেনে তুলছেন তাঁর অন্য এক বন্ধু। কৃতজ্ঞতা আর প্রতারণার এই দ্বৈরথই টেলিছবিটির মূল প্রাণ।
‘ফ্রেমে বাঁধা বন্ধুত্ব’ টেলিছবিতে একঝাঁক জনপ্রিয় মুখ অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় ফিরছেন ঢাকাই সিনেমার পরিচিত নায়ক মামনুন হাসান ইমন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বর্তমানে কানাডা প্রবাসী চিত্রনায়িকা অধরা খান। এই টেলিছবির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দর্শক অধরাকে একটি শক্তিশালী নেতিবাচক চরিত্রে দেখতে পাবেন। তবে সবচাইতে বড় চমক হিসেবে হাজির হচ্ছেন এমদাদ এইচ ভূঁইয়া, যিনি টেলিছবিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
নিজের অভিনীত চরিত্র ও গল্পের বাস্তবতা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এমদাদ এইচ ভূঁইয়া বলেন, “মানুষের জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে। এই টেলিছবির স্ক্রিপ্ট বা গল্পটি এতটাই বাস্তবধর্মী যে, কাজ করার সময় আমার একবারও মনে হয়নি আমি ক্যামেরার সামনে অভিনয় করছি। আমি কেবল সেই মুহূর্তগুলো যাপন করেছি।” উল্লেখ্য, এমদাদ ভূঁইয়া রাজু বাস্তবেও একজন সফল প্রবাসী বাংলাদেশি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই কৃতী সন্তান সিলেটে বেড়ে উঠলেও গত দুই দশক ধরে নিউ ইয়র্কে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস জীবনের আবেগ ও সংঘাত নিয়ে তৈরি এই বিশেষ টেলিছবিটি আগামী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে অবমুক্ত করা হবে। দর্শক সাধারণ শুধু বিনোদন নয়, বরং ভিনদেশের মাটিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবেন এই নির্মাণে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।