আইপিএলের ইতিহাসে মহাবিস্ফোরণ: প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকায় বিক্রি হলো কোহলিদের বেঙ্গালুরু!

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এক অবিশ্বাস্য ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী মূল্যে বিক্রি হয়েছে। ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়াম বা জোট ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে দলটির পূর্ণ মালিকানা লাভ করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই চুক্তির পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকারও বেশি। এর মাধ্যমে আরসিবি কেবল আইপিএলের নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম দামী ক্রীড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।

বর্তমান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেড’ (ইউএসএল) এক দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের পরিচালনা পর্ষদ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি হস্তান্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। নতুন এই মালিকানা জোটে থাকছে আদিত্য বীরলা গ্রুপ, টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপ, বোল্ট ভেঞ্চারস এবং ব্ল্যাকস্টোনের বিনিয়োগ কৌশল সংস্থা। এই চুক্তির আওতায় আরসিবির পুরুষ ও নারী—উভয় দলেরই নিয়ন্ত্রণ থাকবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স স্পোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের অধীনে।

এই মেগা ডিল বা চুক্তির বিশালতা বুঝতে ২০২১ সালের একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। সে সময় লখনৌ এবং আহমেদাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজি দুটি মিলিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) প্রায় ১২ হাজার ৭১৫ কোটি রুপিতে বিক্রি করেছিল। অথচ এবার এককভাবে বেঙ্গালুরুর মূল্য সেই দুই দলের সম্মিলিত দামকেও অনেক বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে গত নভেম্বর মাসে বৈশ্বিক পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিয়াজিও (Diageo), যারা ইউএসএলের মালিক, ইঙ্গিত দিয়েছিল যে ক্রিকেট তাঁদের মূল ব্যবসার অংশ না হওয়ায় আরসিবি থেকে তাঁরা নিজেদের বিনিয়োগ নিয়ে কৌশলগত পর্যালোচনা করছেন। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এই পুরো বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা বা ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এই বিশাল চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে এখনো বিসিসিআই এবং ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশনের (সিসিআই) চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন। ২০০৮ সালে আইপিএল যখন যাত্রা শুরু করে, তখন বিজয় মাল্যর ইউনাইটেড ব্রুয়ারিজ গ্রুপ মাত্র ১১ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলারে দলটি কিনেছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে নারী দলের মালিকানা পেতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৯০১ কোটি রুপি, যা ছিল তৎকালীন সময়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ মূল্য। নতুন এই রদবদলের পর মধ্যপ্রদেশের সাবেক ক্রিকেটার আর্যমান বীরলা পরিচালক এবং টাইমস গ্রুপের সত্যন গজওয়ানি সহ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন মালিকানা জোটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আরসিবির শিরোপাজয়ী সংস্কৃতি এবং বিশ্বজুড়ে থাকা তাঁদের আবেগপ্রবণ সমর্থকগোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হতে পারা একটি অসাধারণ সুযোগ। তাঁরা মাঠের ভেতরে দলের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরসিবিকে একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএসএল-এর প্রধান নির্বাহী প্রভীন সোমেশ্বর বলেন, আরসিবি একটি বাণিজ্যিকভাবে সফল ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে দলটি আরও সামনে এগিয়ে যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।