সংস্কার ও রাজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে শর্তের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সরকারের এখনো সমঝোতা হয়নি। পুরোনো ঋণ কর্মসূচি বাতিলের কথা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানালেও নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের অগ্রহণযোগ্য শর্ত মেনে কোনো সহায়তা নিতে চায় না সরকার। তিনি জানান, আগের আইএমএফ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে এবং দেশের নিজস্ব বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি করেছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ কর্মসূচির পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ কিস্তি ছাড় নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার আগের কর্মসূচি থেকে সরে গিয়ে নতুন একটি আইএমএফ-সমর্থিত ঋণ কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে। গত জুনে আইএমএফও জানিয়েছিল, বাংলাদেশ নতুন একটি আর্থিক ব্যবস্থার অনুরোধ করেছে এবং সম্ভাব্য কর্মসূচির আকার ও সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
আইএমএফের সংস্কারসংক্রান্ত প্রত্যাশার মধ্যে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, করব্যবস্থার সংস্কার এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা মোকাবিলার মতো বিষয় রয়েছে। সংস্থাটির ২০২৬ সালের বাংলাদেশবিষয়ক প্রতিবেদনে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার চালু ও ভ্যাট অব্যাহতি কমানোর মতো পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংস্কার বাস্তবায়নে জনস্বার্থ ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের ভাষ্য, বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে দেশের স্বার্থ ও জনগণের ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অর্থমন্ত্রীর ‘আইএমএফ কর্মসূচি বাতিল’ মন্তব্যের পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং চলতি মাসের শেষ দিকে আইএমএফের একটি দল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনায় রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংক খাতের সংস্কার, ভর্তুকি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন কর্মসূচির ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান ও সংস্কার পরিকল্পনাই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।