অস্কারে আইরিশ রূপকথা: জেসি বাকলির হাত ধরে ভাঙল দীর্ঘ বছরের রেকর্ড!

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের ৯৮তম আসরে এক অনন্য ইতিহাস গড়লেন প্রতিভাবান আইরিশ তারকা জেসি বাকলি। ‘হ্যামনেট’ সিনেমায় এক শোকাতুর মায়ের চরিত্রে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তিনি জয় করে নিয়েছেন সেরা অভিনেত্রীর কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটি। এর মাধ্যমে অস্কারের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম আইরিশ নারী হিসেবে এই নির্দিষ্ট বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার বিরল গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এটি জেসি বাকলির ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অস্কার ‘মনোনয়ন’ হলেও এবার তিনি কোনো ছাড় না দিয়ে সরাসরি বাজিমাত করেছেন।

চলতি পুরস্কার মৌসুমে জেসি বাকলি যেন ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অস্কারের মঞ্চে ওঠার আগেই তিনি বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব, ক্রিটিকস চয়েস এবং অ্যাক্টরস অ্যাওয়ার্ডের মতো বড় বড় মঞ্চে সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ফলে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে তাঁর নাম ঘোষণার আগাম গুঞ্জন ছিল প্রবল। নাম ঘোষণার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই অভিনেত্রী। মঞ্চে উঠে তিনি তাঁর সহ-মনোনীত রোজ বার্ন, কেট হাডসন, রেনাতে রেইনসভে এবং এমা স্টোনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তাঁদের অনুপ্রাণিত হৃদয়ের কথা স্মরণ করে জেসি ভবিষ্যতে সবার সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

পুরস্কার গ্রহণের সময় জেসির পুরো পরিবার অডিটোরিয়ামে উপস্থিত ছিল। মঞ্চ থেকে দর্শকসারিতে থাকা মা-বাবাকে উদ্দেশ্য করে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আপনারা আমাকে সবসময় বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, কোনো ‘এক্সপেক্টেশন’ বা প্রত্যাশার সীমানায় আটকে থাকতে বলেননি।” নিজের স্বামী ফ্রেডি সরেনসেনকে ‘সেরা বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জেসি তাঁর আট মাসের ছোট্ট মেয়ের কথা উল্লেখ করে হাসিভরা মুখে বলেন, তাঁর মেয়ে হয়তো এখন কিছুই বুঝছে না, হয়তো তাঁর ভাবনায় এখন কেবল অন্য কিছু, কিন্তু বড় হয়ে জানবে তাঁর মা একদিন বিশ্বজয় করেছিল। কাকতালীয়ভাবে দিনটি যুক্তরাজ্যে ‘মাদার্স ডে’ বা মা দিবস হওয়ায় জেসি তাঁর এই অর্জন বিশ্বজুড়ে সকল মায়েদের উৎসর্গ করেন।

অস্কারজয়ী নির্মাতা ক্লোয়ি ঝাও পরিচালিত ‘হ্যামনেট’ ছবিটি মূলত একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে। এখানে জেসি অভিনয় করেছেন ‘অ্যাগনেস’ চরিত্রে, যিনি বিখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের স্ত্রী। ছবিতে শেক্সপিয়ারের ভূমিকায় দেখা গেছে পল মেসক্যালকে। গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র হ্যামনেটের প্লেগ রোগে অকাল মৃত্যু। সেই ভয়াবহ শোক এবং পারিবারিক ‘ট্র্যাজেডি’ কীভাবে শেক্সপিয়ারকে তাঁর অমর নাটক ‘হ্যামলেট’ রচনায় উদ্ধুদ্ধ করেছিল, তা-ই জেসির অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

গত বছর ছবির ‘প্রিমিয়ার’ হওয়ার পর থেকেই জেসির অভিনয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন সমালোচকরা। অনেকেই মনে করেছিলেন এটিই তাঁর ক্যারিয়ারের সবচাইতে বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে যাচ্ছে। এর আগে ‘ওমেন টকিং’ ও ‘ওয়াইল্ড রোজ’-এর মতো সিনেমায় তাঁর কাজের দক্ষতা লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রিশ্চিয়ান বেলের বিপরীতে তাঁর সিনেমা ‘দ্য ব্রাইড’ নিয়েও বর্তমানে চলচ্চিত্র পাড়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে অস্কারের এই সাফল্য জেসি বাকলির ক্যারিয়ারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা আইরিশ সিনেমার ইতিহাসের পাতায় চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।