টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য যাত্রার ধারা বজায় রেখে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক এইডেন মার্করামের বিধ্বংসী ব্যাটিং তান্ডবে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইটের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল প্রোটিয়ারা। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে কিউই বোলাররা মার্করামের ব্যাটের সামনে ছিলেন একেবারেই অসহায়।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের একটি লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের ইনিংসের শুরুতেই বড় ধাক্কা দেন প্রোটিয়া পেসার মার্কো জানসেন। ইনিংসের শুরুতে টিম সেইফার্ট ও রাচিন রবীন্দ্রকে সাজঘরে পাঠিয়ে কিউই শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেন তিনি। ফিন অ্যালেন ১৭ বলে ৩১ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ষষ্ঠ ওভারে জানসেনের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন। মাত্র ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড যখন ধুঁকছিল, তখন হাল ধরেন মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেল। এই দুই ব্যাটার পঞ্চম উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখান। চ্যাপম্যান ৪৮ এবং মিচেল ৩২ রান করেন। শেষ দিকে জেমস নিশামের ১৫ বলে অপরাজিত ২৩ রানের ক্যামিও ইনিংসে ১৭৫ পর্যন্ত পৌঁছায় নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে জানসেন ৪০ রানে ৪টি উইকেট শিকার করেন।
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। পাওয়ারপ্লে-র সুবিধা কাজে লাগিয়ে মাত্র ৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬২ রান তুলে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। কুইন্টন ডি কক ২০ রান করে আউট হলেও মার্করামের ব্যাটে রানের গতি কমেনি। মাত্র ১৯ বলে ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি, যা কিউই বোলারদের মানসিকভাবে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। বিশেষ করে মিচেল স্যান্টনারকে লং-অন দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে তাঁর ফিফটি ছোঁয়ার দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো।
রায়ান রিকেলটন ২১ রান করে বিদায় নিলেও অপর প্রান্ত আগলে রেখে প্রোটিয়াদের জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মার্করাম। জয় যখন হাতের নাগালে, তখন ঝুঁকিপূর্ণ শট পরিহার করে স্ট্রাইক রোটেশনের মাধ্যমে লক্ষ্য পূরণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৮টি চার ও ৪টি বিশাল ছক্কায় ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন মার্করাম। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো অধিনায়কের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহের রেকর্ড। ডেভিড মিলার ২৪ রানে অপরাজিত থেকে ১৭ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে ১৭৮ রান তুলে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মার্করাম জানান, পাওয়ারপ্লে-তে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়াটাই ছিল তাঁদের মূল পরিকল্পনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে মঙ্গলবার কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।