ভারতীয় সংগীতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং কয়েক প্রজন্মের হৃদস্পন্দন আশা ভোসলে বর্তমানে জীবনমৃত্যুর এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) হৃদরোগে আক্রান্ত বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হওয়ার পর তাঁকে দ্রুত মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৯২ বছর বয়সী এই প্রবীণ শিল্পীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই সংবাদে কেবল ভারত নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের মাঝে গভীর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতীত সামদানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শনিবার হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হওয়ার পরই কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তাঁকে হাসপাতালের ‘ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস ইউনিট’-এ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা এই পরিস্থিতিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।
এদিকে আশা ভোসলের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর নাতনি জানাই ভোসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমার দাদি আশা ভোসলে অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা বর্তমানে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং আমরা আশা করছি সবকিছু দ্রুত ভালো হবে। আমরা শীঘ্রই কোনো ইতিবাচক খবর নিয়ে ফেরার চেষ্টা করব।”
আশা ভোসলে কেবল একজন গায়িকা নন, বরং তিনি ভারতীয় সংগীতের গত আট দশকের জীবন্ত ইতিহাস। ১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে লোকসংগীত, পপ, গজল এবং আধুনিক গান—সবখানেই নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। আট দশকেরও বেশি দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি বিশ্বের অসংখ্য ভাষায় হাজার হাজার গান রেকর্ড করে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নিজের নাম লিখিয়েছেন। সংগীতের বিচিত্র ধারায় তাঁর অসাধারণ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে সারা বিশ্বে ‘ভার্সেটাইল’ বা বহুমুখী গায়িকা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
ভারতীয় সংগীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’-এ ভূষিত হয়েছেন। এ ছাড়া সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং অসংখ্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ভারত ও বাংলাদেশের অগণিত ভক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থনায় শামিল হয়েছেন। সুরের এই জাদুকরী যেন আবারও সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পুরো বিশ্ব।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।