দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার দুই মহাতারকা থালাপথি বিজয় এবং তৃষা কৃষ্ণানকে ঘিরে চলমান বিতর্ক এখন এক নতুন নাটকীয় মোড় নিয়েছে। কয়েক দিন আগেই বিজয়ের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরার খবর প্রকাশ্যে আসে, যখন তাঁর স্ত্রী সংগীতা আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন জানান। সেই আবেদনে সংগীতা পরোক্ষভাবে তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে বিজয়ের তথাকথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক নামী পরিচালকের বেফাঁস মন্তব্য বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি আয়োজিত ‘গালাটা অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রথিতযশা তামিল অভিনেতা ও পরিচালক আর পার্থিবান। অনুষ্ঠানের একটি পর্বে স্ক্রিনে বেশ কয়েকজন তারকার ছবি দেখানো হচ্ছিল। যখন পর্দার ওপর অভিনেত্রী তৃষার ছবি ভেসে ওঠে, তখন পার্থিবান তাঁর অভিনীত কালজয়ী চরিত্র ‘কুন্দাভাই’ (পন্নিইন সেলভান চলচ্চিত্রের চরিত্র) টেনে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কুন্দাভাইকে ঘরে বসিয়ে রাখাই ভালো, তাহলে আর কোনো সমস্যা হবে না।’ বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ের মাঝে এই ধরণের মন্তব্যকে সাধারণ দর্শক ও নেটিজেনরা স্রেফ তামাশা নয়, বরং এক ধরণের কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখেছেন।
এই মন্তব্যের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান রীতিমতো অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি পার্থিবানের নাম উল্লেখ না করলেও তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানান। তৃষা বলেন, ‘হাতে মাইক্রোফোন থাকলেই কোনো মন্তব্য বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে ওঠে না; বরং এটি মাঝেমধ্যে মানুষের চরম বোকামিকেই জনসমক্ষে নিয়ে আসে।’ তৃষা আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, অনুষ্ঠানের আয়োজকরা তাঁকে জানিয়েছিলেন— শেষ মুহূর্তে কারো বিশেষ অনুরোধেই তাঁর ছবি ও নাম সংবলিত ওই নির্দিষ্ট পর্বটি অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হয়েছিল। তৃষার এমন জোরালো অবস্থানের পর সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হঠতে বাধ্য হন পরিচালক আর পার্থিবান। নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি প্রকাশ্যে তৃষার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘র্যাপিড ফায়ার’ রাউন্ডের দ্রুত উত্তর দেওয়ার চাপে তিনি গভীরভাবে চিন্তা না করেই কথাটি বলে ফেলেছিলেন। পার্থিবান দাবি করেন, মঞ্চ থেকে নামার পরপরই তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন এবং আয়োজকদের ওই অংশটি প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে দর্শকদের কেউ সেটি ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। তিনি নিজেকে নারী স্বাধীনতার আজীবন সমর্থক হিসেবে দাবি করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য অনুতপ্ত হন।
এদিকে, বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে চলা এই অন্তহীন জল্পনার মাঝে ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করেছেন বলিউড নির্মাতা বিক্রম ভাট। ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের এই ‘অতিরিক্ত কৌতূহল’ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। বিক্রমের মতে, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসমাজের এই উন্মাদনা আসলে এক ধরণের ‘মানসিক বন্দিত্ব’ বা মানসিক কারাগার তৈরি করে। তিনি মনে করেন, যদি কোনো সম্পর্ক প্রকৃতপক্ষে শেষ হয়ে যায়, তবে সমাজের চাপে তা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করাও নিরর্থক। বিক্রম ভাট সপাটে জানিয়ে দেন, ‘অভিনেতাদের সিনেমা আমাদের হতে পারে, কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন কখনোই আমাদের নয়।’ দক্ষিণি এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত সংকটকে কেন্দ্র করে বিনোদন জগতে এখন এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।