নিয়াদিল্লি বা মুম্বাই নয়, এবার নিউ ইয়র্ক আর লস অ্যাঞ্জেলেসের আকাশ-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ঢাকাই সিনেমার জয়ধ্বনি। পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ‘দম’ সিনেমাটি দর্শকদের মাঝে এক নজিরবিহীন উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। গুণী নির্মাতা রেদওয়ান রনির নিপুণ পরিচালনা আর দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশোর অনবদ্য অভিনয় সিনেমাটিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। দেশের বক্স অফিসে দাপট দেখানোর পর এবার বিদেশের মাঠ মাতাতে প্রস্তুত ‘দম’। গতকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে মহাসমারোহে মুক্তি পেয়েছে বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি।
সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘বায়োস্কোপ ফিল্মস’-এর কর্ণধার রাজ হামিদ জানিয়েছেন, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি দর্শকদের মাঝে সিনেমাটি নিয়ে আগে থেকেই ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে কেবল নিউ ইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও, বিপুল চাহিদার কারণে এখন কুইন্স (নিউ ইয়র্ক সিটি), নর্থ হলিউড (লস অ্যাঞ্জেলেস), মনিরো ভ্যালি (গ্রেটার লস অ্যাঞ্জেলেস), চিনো হিলস (সেন্ট্রাল ক্যালিফোর্নিয়া), অ্যারিজোনার টেম্পি ও চ্যান্ডলার এবং কলোরাডোর বিভিন্ন থিয়েটারে একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘দম’।
রাজ হামিদ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা ‘দম’ নিয়ে যে বিশেষ প্রচারণা বা ক্যাম্পেইন করেছি, তাতে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। এমনকি সিনেমাটি মুক্তির আগেই অগ্রিম টিকিটের (Advance Ticket) যে চাহিদা আমরা লক্ষ্য করেছি, তা আমাদের অভিভূত করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “শুরুতে শহর সংখ্যা কম থাকলেও দর্শকদের চাপে আমরা তা বাড়িয়ে সাতটি করতে বাধ্য হয়েছি।”
তবে এই জয়যাত্রা কেবল এই সাত শহরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে কানাডার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ডলাস, মিয়ামি, বোস্টন, সান ফ্রান্সিসকো, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, মিশিগান ও আটলান্টার মতো প্রধান শহরগুলোতেও ‘দম’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। পরিবেশকদের প্রত্যাশা, সতেরো তারিখের পর যখন আরও বেশি স্টেটে সিনেমাটি চলবে, তখন প্রবাসী দর্শকদের ভিড় আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে ঢাকাই সিনেমার এই ক্রমবিকাশ কেবল সংস্কৃতির আদান-প্রদানই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সৃজনশীলতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। বিদেশের মাটিতে ‘দম’-এর এই শক্তিশালী পদযাত্রা বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের সুনিশ্চিত ইঙ্গিতবাহী হয়ে উঠছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।