ছোট পর্দার পরিচিত মুখ যাহের আলভীর একটি সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিনোদন অঙ্গন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে ‘ইকলি’ সম্বোধন করে দেওয়া আলভীর সেই আবেগঘন বার্তাটি মুহূর্তেই ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। তবে সেই পোস্টে আলভী সহমর্মিতা পাওয়ার আশা করলেও নেটিজেনদের কাছ থেকে উল্টো ধেয়ে আসছে একের পর এক কঠোর সমালোচনা ও ধিক্কার।
আলভী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “ইকলি, তোকে একটা প্রশ্ন করি? কোন একদিন তোর কাছে এসে উত্তরটা শুনে নিব! আচ্ছা, আজকে তোর জায়গায় যদি আমি চলে যেতাম, তখনো কি সমগ্র পৃথিবী তোর বিরুদ্ধে চলে যেত? তোকে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করত?” আলভী তাঁর বার্তায় আরও দাবি করেন, তাঁর বন্ধুরা প্রয়োজনে চেয়ে বেশি মিথ্যে বলে তাঁকে সমাজের চোখে ‘খারাপ’ বানানোর চেষ্টা করছে। এমনকি তিনি খুব শীঘ্রই কোনো এক ‘পাহাড়ের চূড়ায়’ বসে ইকরার সাথে পুনরায় গল্প করার রহস্যময় ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি মূলত নিজেকে পরিস্থিতির শিকার হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা।
তবে আলভীর এই আবেগাতুর শব্দমালার আড়ালে লুকিয়ে থাকা রূঢ় বাস্তবতা নিয়ে সরব হয়েছে নেটদুনিয়া। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এটি স্রেফ ‘আবেগের আড়ালে নিজের দায় এড়ানোর এক সুকৌশলী প্রচেষ্টা’। জনরোষের মুখে পড়ে একপর্যায়ে আলভী তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের কমেন্ট বক্স বা মন্তব্যের ঘর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। কিন্তু এতেও বিতর্ক থামেনি; বরং বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপ থেকে আলভীর পোস্টের ‘স্ক্রিনশট’ শেয়ার করে তাঁর নৈতিকতা ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে ঘিরে আগে থেকেই রহস্যের দানা বাঁধছিল। ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় আলভীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আলভীর সঙ্গে তাঁর সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ইকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা ‘মেন্টালি আনস্ট্যাবল’ হয়ে পড়েছিলেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল অভিনেত্রী তিথির জন্মদিন, যা উদযাপন করতে আলভী ও তিথি নেপালে গিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও আলভী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে নেপাল থেকে ফেরার পরদিনই ইকরার মৃত্যু বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
বিনোদন জগতের অনেকের দাবি, আলভী ও তিথির সম্পর্কের বিষয়টি ইকরাকে সামাজিকভাবে ‘এক্সপোজ’ করার হুমকিতে রেখেছিল, যা তাঁকে আত্মহননের পথে ঠেলে দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন ইকরার পরিবার বিচারের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে আলভী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে জনমত নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করছেন। শোক এবং অভিযোগের এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে যাহের আলভী এখন প্রচণ্ড মানসিক ও আইনি চাপের মুখে রয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।