ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে মুমতাজ এমন এক নাম, যিনি কেবল রূপ দিয়ে নয়, বরং দাপুটে অভিনয় দিয়ে শাসন করেছেন বলিউড। ‘তেরে মেরে স্বপনে’ কিংবা ‘রোটি’র মতো কালজয়ী সিনেমার মাধ্যমে যখন তিনি সাফল্যের মধ্যগগনে, ঠিক তখনই ১৯৭৪ সালে ব্যবসায়ী ময়ূর মাধবানিকে বিয়ে করে অভিনয় জগতকে বিদায় জানান তিনি। দীর্ঘ সময় পর এক সাক্ষাৎকারে সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ এবং তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সাক্ষাৎকারে মুমতাজ জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে বলিউড মেগাস্টার শাম্মি কাপুরের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা। এমনকি শাম্মি কাপুর তাঁকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের প্রস্তাব মুমতাজ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এক অদ্ভুত শর্তের কারণে। তিনি জানান, সেই সময়ে কাপুর পরিবারের এক কঠোর অলিখিত নিয়ম ছিল—বিয়ের পর ওই পরিবারের কোনো মেয়ে বা পুত্রবধূ আর অভিনয়ে অংশ নিতে পারবেন না। মুমতাজ তখন ছিলেন অত্যন্ত তরুণ এবং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ফলে অভিনয় ছাড়ার সেই কঠিন শর্ত মেনে নিতে না পেরে তিনি শাম্মি কাপুরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
নিজের বিয়ে এবং প্রস্থান নিয়ে মুমতাজ বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে আরও কিছুদিন কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার পরিবার ছিল অত্যন্ত রক্ষণশীল। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর মেয়েদের বিয়ে করে সংসারে মনোযোগী হওয়া উচিত।” পরিবারের ইচ্ছাকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি ১৯৭৪ সালে ময়ূর মাধবানিকে বিয়ে করেন। মুমতাজ জানান, তাঁর স্বামী বিয়ের জন্য দুই বছর অপেক্ষা করেছিলেন যাতে তিনি তাঁর হাতে থাকা সিনেমার কাজগুলো শেষ করতে পারেন। এমনকি সংসার শুরু করার খাতিরে অনেক ছবির ‘সাইনিং মানি’ পর্যন্ত তাঁকে ফেরত দিতে হয়েছিল।
মুমতাজ তাঁর সময়ে এবং বর্তমানের প্রেক্ষাপটের তুলনা করে বলেন, এখনকার নারীরা নিজেদের মতামত প্রকাশে অনেক বেশি স্বাধীন। তাঁর শৈশব ও কৈশোরে পরিস্থিতি এতটাই কঠোর ছিল যে, শুটিংয়ে অংশ নেওয়া বা বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবারের সদস্যরা সব সময় ছায়ার মতো সঙ্গে থাকতেন। তবে আধুনিক এই খোলামেলা সমাজ এবং নারীদের আত্মনির্ভরশীলতাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন।
নিজের আন্তধর্মীয় বিয়ে নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি মনে করেন, ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিন্নতা কখনো সম্পর্কের মাঝে দেয়াল হতে পারে না। মানুষে মানুষের মধ্যকার ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধই একটি সফল সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি। সতেরো বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করা মুমতাজ ক্যারিয়ারের মায়া ত্যাগ করে ঘর বেঁধেছিলেন ঠিকই, তবে তাঁর ফেলে আসা সেই সোনালি দিনগুলোর গল্প আজও বলিউডের অলিন্দে শিহরণ জাগায়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।