দক্ষিণী সিনেমা জগতের পর্দার রসায়ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অগণিত জল্পনা-কল্পনা আর ভক্তদের কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে জীবনসঙ্গী হিসেবে একে অপরের হাত ধরছেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রাশমিকা মান্দানা। রাজস্থানের ঐতিহাসিক শহর উদয়পুরের একটি অত্যন্ত বিলাসবহুল রিসোর্টে আয়োজন করা হয়েছে এই রাজকীয় বিয়ের। দুই তারকার মালাবদলের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে বর্তমানে ভারতের বিনোদন অঙ্গন তথা টলিউড থেকে বলিউড—সর্বত্রই বইছে আনন্দের জোয়ার।
বিজয় ও রাশমিকার এই সম্পর্কের যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে লুকোচুরি খেললেও, শেষ পর্যন্ত ভক্তদের দেওয়া বিশেষ নাম ‘বিরোশ’ (ViRash) গ্রহণ করেই বিয়ের ঘোষণা দেন তাঁরা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে এই জুটি জানান যে, অগণিত অনুরাগী তাঁদের ভালোবেসে যে নামে ডাকেন, সেই ‘বিরোশ’ নামেই তাঁদের বিয়ের নামকরণ করা হয়েছে— ‘দ্য ওয়েডিং অব বিরোশ’। এই ঘোষণার পর থেকেই তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা নিয়ে শুরু হয় নতুন করে আলোচনা।
আভিজাত্য আর তারকাখ্যাতির তুঙ্গে থাকলেও নিজেদের বিয়ের আয়োজনে দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্যকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছেন এই নবদম্পতি। আধুনিক রিসোর্টের জাঁকজমকের মধ্যেও অতিথিদের আপ্যায়নে রাখা হয়েছে ভিন্নধর্মী ও মাটির কাছাকাছি এক ছোঁয়া। বিয়ের বিশেষ ভোজে অতিথিদের খাবার পরিবেশন করা হবে ঐতিহ্যবাহী কলাপাতায়, যা দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধি, পবিত্রতা ও নতুন জীবনের শুভসূচনার প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পানীয় হিসেবে থাকছে প্রাকৃতিক ডাবের পানি, যা দক্ষিণ ভারতের উষ্ণ আতিথেয়তা ও আন্তরিকতার প্রতিফলন হিসেবে বিশেষভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।
আজকের এই মূল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় দুই পরিবারের সদস্য এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবরাই শুধু আমন্ত্রিত হয়েছেন। ঘনিষ্ঠ ও ঘরোয়া পরিবেশের এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে বর-কনেকে আশীর্বাদ করবেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। রাজকীয় সাজ আর ঐতিহ্যের এমন মেলবন্ধনে ‘দ্য ওয়েডিং অব বিরোশ’ এখন বছরের অন্যতম আলোচিত সেলিব্রেটি বিয়েতে পরিণত হয়েছে। অগণিত ভক্ত-অনুরাগী এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন সেই মুহূর্তের জন্য, যখন তাঁদের প্রিয় বিজয় ও রাশমিকার বিয়ের প্রথম ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।