জাহের আলভীর ‘শেষ পোস্টে’ বিস্ফোরক তথ্য: মৃত্যুর আগে ইকরার বাসায় কারা এসেছিলেন?

ছোট পর্দার পরিচিত অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার রহস্যময় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এখন এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এই ঘটনায় নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে এবং এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর পোস্ট দিয়েছেন আলভী। এই পোস্টটিকে তিনি নিজের ‘শেষ পোস্ট’ হিসেবে অভিহিত করে সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর অতীত জীবন নিয়ে বেশ কিছু পিলে চমকানো তথ্য ও প্রশ্ন সামনে এনেছেন।

আলভী তাঁর স্ট্যাটাসে দাবি করেন, তাঁর বাসার ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল, যার সম্পূর্ণ ‘এক্সেস’ বা নিয়ন্ত্রণ ছিল শুধুমাত্র তাঁর স্ত্রী ইকরার স্মার্টফোনে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৫, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ইকরার বেশ কয়েকজন বন্ধু ও বান্ধবী বাসায় এসেছিলেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তাঁরা সিগারেট, গাঁজা ও মদ্যপান করেন। আলভী আরও দাবি করেন যে, মৃত্যুর ঠিক আগের দিন ইকরা তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে কিছু ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন এবং সেই ওষুধগুলো সিসিটিভির আওতাতেই তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণগুলো যেন কোনো প্রভাবশালী পক্ষ সরিয়ে ফেলতে বা নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে এই অভিনেতা জানান, ইকরার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বর্তমানে পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের (অটোপসি) রিপোর্ট নিয়েও তাঁর মনে সংশয় কাজ করছে। তবে সবচাইতে স্পর্শকাতর ও বির্তকিত অভিযোগটি তিনি করেছেন ইকরার ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্র নিয়ে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের জবাবে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আলভী জানতে চান— জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’ নামের এক সহপাঠীর সঙ্গে ইকরার প্রকৃত সম্পর্ক কী ছিল?

আলভীর ভাষ্যমতে, ২০১০ সালে তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করার পর ইকরার পরিবার বিষয়টি গোপন রেখে তাঁকে না জানিয়েই ইকরাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছিল। আলভী অভিযোগ করেন, প্রথম স্বামী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও ইকরা সেই দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং বাসরও করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ইকরা পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে এলে তিনি তাঁকে ক্ষমা করে সংসার শুরু করেন।

ফেসবুক বার্তার শেষ দিকে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে আলভী লিখেছেন, ‘ওপর মহলের চাপ’, ইকরার পরিবারের ‘প্রতিশোধপরায়ণতা’ এবং নিজ সহকর্মীদের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ কারণে তিনি হয়তো আর বাঁচতে পারবেন না। নিজের একমাত্র অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের কাছে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের আকুতি জানিয়েছেন। পরিশেষে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে এক বিষণ্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। আলভীর এই বিস্ফোরক দাবির পর এখন তদন্তকারী সংস্থাগুলো কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রাখছে সারা দেশ।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।