দেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার হায়দার হোসেনের মৃত্যুর খবর নিয়ে গত শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভয়াবহ অস্থিরতা ও চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে শিল্পীর ‘প্রয়াণের’ খবরটি ভাইরাল হয়ে যায়, যা নিয়ে সংগীতপ্রেমী এবং সাধারণ ভক্তদের মাঝে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখা গেছে, কয়েকটি মূলধারার গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া ‘ফটোকার্ড’ তৈরি করে এই পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
ইন্টারনেটের এই যুগে গুজবটি বাতাসের চেয়েও দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মিডিয়া জগতের কর্মীরাও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। অনেকেই সত্যতা যাচাইয়ের জন্য হন্যে হয়ে শিল্পীর নিকটাত্মীয় এবং সংশ্লিষ্ট মহলে ফোন করতে শুরু করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে একপর্যায়ে নিজেই জনসমক্ষে আসেন হায়দার হোসেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে তিনি সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটান।
হায়দার হোসেন তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমি বেঁচে আছি এবং ভালো আছি। আমাকে দোয়ায় রাখার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’ এই বার্তার পর ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই গুণী শিল্পী তাঁর বিরক্তির কথা প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্ধ্যা থেকে ফোন রাখতে পারছি না। একের পর এক কল আসছে। কী যে একটা ঝামেলার মধ্যে পড়েছি! আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি এবং ভালো আছি।’
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের এক অবিচ্ছেদ্য নাম হায়দার হোসেন। সমাজের অসঙ্গতি আর দেশপ্রেম নিয়ে তাঁর কালজয়ী গান ‘৩০ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি’ কিংবা জীবনের রূঢ় বাস্তবতা নিয়ে লেখা ‘আমি ফাইসা গেছি’ গানগুলো আজও সকল প্রজন্মের শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এমন একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এভাবে কুরুচিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর ঘটনাটিকে ডিজিটাল অপরাধ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও তথ্য যাচাই করে শেয়ার করার আহ্বান জানিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।