ভক্তদের মুখে প্রিয় কোন সংলাপ শোনেন ফারুক আহমেদ?

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা ফারুক আহমেদের নাম নিলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী নাটকগুলোর বিচিত্র সব চরিত্র। তাঁর সাবলীল অভিনয় আর নিখুঁত ‘কমিক টাইমিং’ দর্শকদের হাসিয়েছে বছরের পর বছর। তবে শুটিং সেটে কিংবা ব্যক্তিগত কাজে বাইরে বের হলে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। দর্শকেরা তাঁকে দেখলেই তাঁর অভিনীত জনপ্রিয় সব সংলাপ আওড়াতে শুরু করেন। বিশেষ করে ‘বৃক্ষমানব’ নাটকের সেই বহুল আলোচিত সংলাপ— ‘গাঞ্জা খাইয়া কূল পাই না, পড়াশোনা করব কোন সময়’— এটি তাঁকে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও শুনতেই হয়।

সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ফারুক আহমেদ জানান, দর্শকদের এই ভালোবাসা তাঁর কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, “ভক্তরা যখন আমাকে দেখে আমারই অভিনীত সংলাপগুলো বলেন, তখন মনে হয় অভিনেতা হিসেবে আমি হয়তো সফল হতে পেরেছি।” এই সংলাপটি ছাড়াও ‘বংশের একটা ইজ্জত আছে, আমরা সরকার বংশ’, ‘দূর ছাতা, আবার বলে তৈয়ব ভাই’, ‘আমি বোকাসোকা মানুষ’, কিংবা ‘ফুলি, আজ তোমারে অধিক সৌন্দর্য লাগতেছে’— এমন আরও ডজনখানেক সংলাপ প্রতিনিয়ত তাঁর কানে বাজে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে এই সংলাপগুলোর ‘ক্লিপ’ কোটি কোটি ভিউ পেয়েছে, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছেও তাঁকে সমান জনপ্রিয় করে রেখেছে।

তবে এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মাঝেও এক ধরনের অতৃপ্তি কাজ করে এই বর্ষীয়ান অভিনেতার মনে। দীর্ঘ ৩৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি অধিকাংশ সংলাপই পেয়েছেন প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কাজ থেকে। তাঁর আক্ষেপ, গত ২০ বছরে নতুন কোনো বৈচিত্র্যময় চরিত্র বা সংলাপ সেভাবে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেনি। ফারুক আহমেদ মনে করেন, পরিচালকদের উচিত অভিনয়শিল্পীদের গৎবাঁধা চরিত্রের বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে আবিষ্কার করা। তিনি বলেন, “একজন অভিনেতার নানা চরিত্রের ক্ষুধা থাকে। আমি এখন নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছি এবং নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে চাই।”

ব্যক্তিগত জীবনের এক বিষাদময় অধ্যায় নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেতা। গত ২৫ মার্চ ছিল তাঁর জন্মদিন। ১৯৬০ সালে মানিকগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনোই জন্মদিন উদ্‌যাপন করেননি। এর পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক শোকগাঁথা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের গণহত্যার স্মৃতি তাঁকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়। তিনি জানান, মার্চ মাসটা এলেই সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে পড়ে তাঁর মন খারাপ হয়ে যায়। নিজের জন্মদিনের আনন্দের চেয়ে দেশের সেই করুণ আত্মত্যাগ তাঁর কাছে অনেক বেশি প্রাধান্য পায়।

পরিণত বয়সে এসেও ফারুক আহমেদ এখনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য একই রকম রোমাঞ্চ অনুভব করেন। আধুনিক সিনেমা ও নাটকে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা আগামীতে দর্শকদের আরও নতুন ও সমৃদ্ধ কিছু উপহার দেবে বলেই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।