পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করলেও দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের চিরায়ত উন্মাদনা ও আগ্রহে এতটুকু ভাটা পড়েনি। রাজধানীর আধুনিক মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে এখনো টিকিটের জন্য দর্শকদের দীর্ঘ সারি এবং হাহাকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এই অভাবনীয় সাফল্যের আবহের মধ্যেই নতুন এক দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে হল মালিক ও প্রদর্শকদের মনে। সরকারি নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সময়ের পর বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ফলে সন্ধ্যার পরের গুরুত্বপূর্ণ শো বা ‘পিক টাইম’-এর প্রদর্শনীগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা ঢালিউডের ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
ঢাকার জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’, ‘লায়ন সিনেমাস’ ও ‘ব্লকবাস্টার সিনেমাস’-এ বর্তমানে ঈদের পাঁচটি সিনেমা সগৌরবে প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে দর্শক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে শো বা প্রদর্শনীর সংখ্যায় ব্যাপক রদবদল এসেছে। তৃতীয় সপ্তাহে স্টার সিনেপ্লেক্সে আধিপত্য বিস্তার করছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, যার সর্বোচ্চ ৩৩টি শো চলছে। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ‘দম’ (২৬টি শো), ‘রাক্ষস’ (১৩টি শো), ‘প্রেশার কুকার’ (৯টি শো) এবং ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ (৭টি শো)। লায়ন সিনেমাসে ‘রাক্ষস’ ৪টি শো নিয়ে এগিয়ে থাকলেও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘দম’ ৩টি করে এবং ‘প্রিন্স’ ও ‘প্রেশার কুকার’ যথাক্রমে ২টি ও ১টি প্রদর্শনী পাচ্ছে। ব্লকবাস্টার সিনেমাসেও প্রায় অভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।
স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সিনেমার বর্তমান বাজার নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে জানান, ছুটির দিনগুলোতে প্রায় সব ছবিই ‘হাউসফুল’ যাচ্ছে। এমনকি রোববারের অগ্রিম টিকিট বিক্রির হারও অত্যন্ত সন্তোষজনক। তবে মাল্টিপ্লেক্সের এই রমরমা অবস্থার বিপরীতে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ১৩৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া মেগাস্টার শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ তৃতীয় সপ্তাহে এসে হলের সংখ্যা কমিয়ে শ’খানেকে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ‘রাক্ষস’ সিনেমাটি এই সপ্তাহে ১৮টি সিঙ্গেল স্ক্রিনে নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ জানান, দর্শক উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় তিনি আগামী সপ্তাহে নতুন ছবি প্রদর্শনের চিন্তা করছেন।
চলচ্চিত্র শিল্পের এই অভাবনীয় মুহূর্তেই বড় আঘাত হিসেবে এসেছে বিপণিবিতান বন্ধের সরকারি নির্দেশনা। যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ‘ব্লকবাস্টার সিনেমাস’ ইতিমধ্যে রোববার থেকে সন্ধ্যার পরের প্রদর্শনীগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অফিস শেষে পরিবার নিয়ে দর্শকেরা সাধারণত সন্ধ্যার শো-গুলো দেখতে পছন্দ করেন, যা আমাদের আয়ের প্রধান উৎস। এই ‘পিক টাইম’ বন্ধ থাকলে আমরা কেবল দর্শকই হারাব না, বরং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ব।” যদিও স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়ন সিনেমাস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পায়নি, তবে সন্ধ্যার শো বন্ধের আশঙ্কা তাদের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ঢালিউড যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এই সময়সূচি সংক্রান্ত জটিলতা যেন সিনেমার সোনালি দিনের পথে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।