গুজরাটি সিনেমার পর্দা কাঁপিয়ে জানকি বোড়িওয়ালা এখন বলিউডের গ্ল্যামার জগতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। বিশেষ করে হিন্দি চলচ্চিত্র ‘শয়তান’-এ তাঁর গা ছমছমে অভিনয় দর্শক ও সমালোচক—উভয় মহলেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর আগে মূল গুজরাটি ছবি ‘বশ’-এ অনবদ্য পারফরম্যান্সের জন্য তিনি অর্জন করেছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘মারদানি ৩’ ছবিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে লাইমলাইটে রয়েছেন এই প্রতিভাবান অভিনেত্রী। তবে তাঁর এই তারকা হয়ে ওঠার পথটি আর দশটা গ্ল্যামারাস গল্পের মতো ছিল না।
সম্প্রতি ‘নবভারত টাইমস’-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে জানকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা অজানা দিক উন্মোচন করেছেন। জানকি জানান, ছোটবেলায় তাঁর কোনোদিনই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন ছিল না; বরং তিনি চেয়েছিলেন একজন সফল দন্তচিকিৎসক বা ডেন্টিস্ট হতে। সেই লক্ষ্যেই তিনি পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরিবারে চলচ্চিত্রপ্রেমী বাবা থাকায় সিনেমার পরিবেশের সঙ্গে তাঁর সখ্য ছিল আগে থেকেই। একদিন বাবার বিশেষ অনুরোধেই অনেকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটি ‘অডিশন’ দিতে যান তিনি। প্রথম দিকে নার্ভাস থাকলেও পরিচালকের জহুরি চোখ তাঁর ভেতরের প্রতিভাকে চিনতে ভুল করেনি। এভাবেই ডেন্টাল সায়েন্সের পাঠ চুকিয়ে তিনি পা রাখেন অভিনয়ের মায়াবী জগতে।
ক্যারিয়ারের মাইলফলক হিসেবে জানকি ‘শয়তান’ ছবিটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। একই গল্পের গুজরাটি এবং হিন্দি—উভয় সংস্করণে অভিনয় করা ছিল তাঁর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে তিনি বলেন, “এই চরিত্রটি আমার শারীরিক ও মানসিক শক্তিকে আক্ষরিক অর্থেই নিংড়ে নিয়েছিল। শুটিং থেকে প্রতিদিন চরম ক্লান্তি আর শরীরে ছোটখাটো আঘাত নিয়ে বাড়ি ফিরতাম। মা অনেক সময় ভয় পেতেন, কিন্তু আমি জানতাম একজন প্রকৃত অভিনেতার জন্য এই ধরণের জটিল চরিত্রই হলো তুরুপের তাস।” পরবর্তীতে ‘মারদানি ৩’ ছবিতে নারী নির্যাতন ও অপরাধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান। এই ছবিতে রানী মুখার্জির সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে তিনি জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত ‘জেন-জি’ (Gen-Z) প্রজন্ম নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছেন জানকি। অনেকেই মনে করেন এই প্রজন্ম কেবল আরামপ্রিয় কিংবা লক্ষ্যহীন; কিন্তু জানকির মতে, তাঁরাই হলেন এখন পর্যন্ত সবচাইতে ‘পারফেক্ট’ প্রজন্ম। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, “আগের প্রজন্মগুলো কেবল দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেদের স্বপ্ন আর ইচ্ছাকে বিসর্জন দিত। আমরা সেটা করি না। আমরা কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি জীবনকে উপভোগ করতে জানি। আমরা আমাদের ‘মেন্টাল হেলথ’ বা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন এবং কাজের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ‘বাউন্ডারি’ বা সীমারেখা টানতে জানি।” এই ভারসাম্যই জেন-জি-দের আসল শক্তি বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যতে নিজেকে কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে রাখতে নারাজ জানকি। তিনি একাধারে বাণিজ্যিক ও বিষয়ভিত্তিক—উভয় ধরণের সিনেমাতেই অভিনয় করতে চান। চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের প্রতি তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি এমন সব কাজ করতে চান যা তাঁকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেবে এবং অভিনয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। গ্ল্যামারের চাকচিক্যের চেয়েও ভালো গল্প আর শক্তিশালী চরিত্রই এখন জানকির প্রধান লক্ষ্য।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।