ব্রেন টিউমার অপারেশন শেষে তানিয়া বৃষ্টির প্রথম বার্তা

টেলিভিশন পর্দার জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ তানিয়া বৃষ্টি গত কয়েক দিন ধরে এক কঠিন জীবনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ব্রেন টিউমার নামক মরণব্যাধি শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন। অবশেষে সেই ভয়াবহ অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এলেন এই অভিনেত্রী। গত বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি লাইভে যুক্ত হয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের নিজের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত ‘আপডেট’ প্রদান করেন তিনি। এ সময় তানিয়াকে কিছুটা ক্লান্ত দেখালেও তাঁর কণ্ঠে ছিল ফিরে আসার প্রবল আত্মবিশ্বাস।

লাইভে তানিয়া বৃষ্টি জানান, কিছুদিন আগে তাঁর মাথার এক পাশে একটি টিউমার ধরা পড়ে, যা তাঁর স্বাভাবিক জীবনকে স্থবির করে দিয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেই টিউমারের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। সাধারণত এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারে ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগার কথা থাকলেও চিকিৎসকদের দক্ষতা ও অলৌকিক কৃপায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর অস্ত্রোপচার সফলভাবে শেষ হয়। অপারেশন থিয়েটারের সেই মুহূর্তগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে তানিয়া আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘অস্ত্রোপচার শেষে যখন আমার সেন্স ফিরল, তখন চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ব্যাকুল হয়ে আমার আম্মুকে খুঁজছিলাম। আমি বারবার ডাক্তারকে বলছিলাম যে, আমি ঠিক আছি তো?’

হাসপাতালে কয়েক দিন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর বর্তমানে তানিয়া বৃষ্টি তাঁর নিজ বাসায় ফিরেছেন। তবে শারীরিক ধকল কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসক তাঁকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। অসুস্থতার এই দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যু কিংবা কোমায় থাকার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব ছড়িয়ে পড়ায় তিনি বেশ মর্মাহত হয়েছেন। তানিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেকেই কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করেই বলেছিলেন আমি মারা গেছি কিংবা কোমায় আছি। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদের কারণেই আমি নিজে থেকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দিতে চাইনি।’

অস্ত্রোপচার-পরবর্তী শারীরিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী জানান, নিয়মিত ভারী ওষুধ সেবনের ফলে তাঁর শারীরিক ওজন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়েই আবার ‘জিমে’ গিয়ে নিজেকে ‘ফিট’ করে চিরচেনা অভিনয়ে ফিরবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে এ বছর খুব বেশি কাজ করতে না পারলেও আসন্ন ঈদুল ফিতরে তাঁর বেশ কিছু নাটক প্রচারিত হবে। পবিত্র রমজান মাস নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের জবাবে তানিয়া জানান, দিনে তিন বেলা কড়া ডোজের ওষুধ খেতে হওয়ায় তিনি এ বছর রোজা রাখতে পারছেন না। তবে ঘরে বসেই তিনি নিয়মিত নামাজ ও তাহাজ্জুদ আদায়ের চেষ্টা করছেন। কঠিন এই সময়ে ভক্তদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দোয়াই তাঁকে দ্রুত সেরে ওঠার মানসিক শক্তি জুগিয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।