তামিল টেলিভিশন অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ ও পরিচিত অভিনেত্রী সুভাষিণীর (৩৬) রহস্যজনক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে। সোমবার (৬ এপ্রিল) চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাই এলাকার নিজ বাসভবন থেকে এই অভিনেত্রীর নিথর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত জীবনের চরম অশান্তির জেরে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর আগে কোনো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে সুভাষিণীর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। দাম্পত্য কলহের এক পর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি নিজেকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা বিচলিত হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে তারা কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সুভাষিণীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় ইতোমধ্যে স্থানীয় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষ করে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ অ্যাকাউন্টগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। কোনো ‘সুইসাইড নোট’ কিংবা শেষ মুহূর্তের কোনো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই এখন মূল নজর পুলিশের।
শ্রীলঙ্কায় জন্ম নেওয়া সুভাষিণীর আজন্ম স্বপ্ন ছিল একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী হওয়ার। সেই স্বপ্নকে হৃদয়ে ধারণ করে তিনি নিজ দেশ ছেড়ে ভারতের চেন্নাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তবে চেন্নাইয়ের গ্ল্যামার জগতে নিজের একটি মজবুত অবস্থান তৈরি করা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। অগণিত ‘অডিশন’, ছোট ছোট পার্শ্ব চরিত্র এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তাকে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর মেগা ধারাবাহিক ‘কয়াল’-এর মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন এবং তামিল টিভি পাড়ায় অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অদম্য পরিশ্রমী এই অভিনেত্রীর এমন অকাল প্রস্থান তার সহকর্মী ও অনুরাগীদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া