সহকর্মীদের নিয়ে ফেসবুকে কাদা ছোড়াছুড়ি

দেশের শোবিজ অঙ্গনে বর্তমানে কাজের চেয়েও তারকাদের ব্যক্তিগত রেষারেষি, কাদা ছোড়াছুড়ি এবং একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিষোদ্গার যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরকে আক্রমণ করে দেওয়া স্ট্যাটাস বা ভিডিও বার্তা এখন প্রায়ই ‘টক অফ দ্য টাউন’-এ পরিণত হচ্ছে। এমন এক অস্থির ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের বৃহৎ সংগঠন ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ’। শিল্পীদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্বে রাশ টানতে এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি জরুরি ও কঠোর সতর্কবার্তা সম্বলিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (৪ মার্চ) সংগঠনের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, পেশাগত বা ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ে সহকর্মী কিংবা অন্য কোনো বন্ধুপ্রতিম সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে মতভেদ দেখা দিলে তা কোনোভাবেই জনসমক্ষে আনা যাবে না। বিশেষ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে কথা বলা বা পোস্ট করা অভিনয়শিল্পী সংঘের মৌলিক আচরণবিধির চরম পরিপন্থী বলে গণ্য হবে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যেকোনো পেশাদারী সমাজে মতভেদ থাকা অস্বাভাবিক নয়, তবে তার সমাধান হওয়া উচিত নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো ও আলোচনার মাধ্যমে। অভিনয়শিল্পী সংঘ বিশ্বাস করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ঘটনার একতরফা বা ‘ওয়ান সাইডেড’ উপস্থাপন একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট শিল্পীর পেশাগত ভাবমূর্তিকে জনসাধারণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অন্যদিকে পুরো অভিনয়শিল্পী সমাজের সম্মান ধূলিসাৎ করে দেয়। এতে করে সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি ও নেতিবাচকতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর।

সবশেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, যদি কোনো সদস্য এই নির্দেশ অমান্য করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক নীতি অনুযায়ী সদস্যপদ বাতিল বা স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। মূলত বিনোদন অঙ্গনের ঐতিহ্য এবং প্রফেশনালিজম বা পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ। এখন দেখার বিষয়, এই সতর্কবার্তার পর তারকারা তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক জনসমক্ষে আনা থেকে কতটা বিরত থাকেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।