বলিউডের এক সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘কমেডি কিঙ্গ’ ও ড্যান্সিং সুপারস্টার গোবিন্দ বর্তমানে রূপালি পর্দা থেকে দীর্ঘ নির্বাসনে থাকলেও, তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ও মন্তব্য আজও বিনোদন জগতে বড় ধরণের আলোড়ন সৃষ্টি করে। সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে স্ত্রী সুনীতা আহুজার সঙ্গে বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও তাঁদের আইনজীবী পরবর্তীতে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন যে, কয়েক মাস আগে ডিভোর্সের আবেদন করা হলেও সব মান-অভিমান ভুলে এই দম্পতি আবারও এক ছাদের নিচেই বসবাস করছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েন ছাপিয়ে এবার বি-টাউনের অন্দরমহলের নগ্ন বাস্তবতা নিয়ে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ‘রাজা বাবু’ খ্যাত এই অভিনেতা।
সাক্ষাৎকারে বলিউডের গ্ল্যামারাস পরিবেশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রূঢ় সত্যগুলো অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন গোবিন্দ। তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, এই চাকচিক্যময় ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কোনো নক্ষত্র কি আছেন যাঁর ক্যারিয়ারে কোনোদিন বিতর্কের কালিমালিপ্ত হয়নি? তাঁর সাফ কথা, “কার নামটাই বা এই লাইনে পুরোপুরি পরিষ্কার? এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গেলে প্রায় প্রত্যেককেই কোনো না কোনো সময় কটু সমালোচনা কিংবা চরম বদনামের ভাগীদার হতে হয়।”
গোবিন্দর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কারো ক্যারিয়ার যদি একেবারে নিস্তরঙ্গ ও বিতর্কহীন হয়, তবে সেটি বরং অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, “কেউ যদি সম্পূর্ণ বিতর্কহীন থাকেন, তবে উল্টো আমার সন্দেহ হয়। অনেক সময় মানুষ কাউকে অতিরিক্ত ভালোবাসলে তাঁর প্রতি এক ধরণের ভয় বা দূরত্ব তৈরি করে। সময়মতো শুটিংয়ে আসা বা ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ হওয়ার কারণে কেউ সম্মান পেতেই পারেন, কিন্তু দিনশেষে তাঁর নাম নিয়েও জল ঘোলা করা হয়।” এটি যে এই গ্ল্যামার জগতের এক অলিখিত নিষ্ঠুর নিয়ম, তা গোবিন্দর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে বলিউডের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ কিছু আইকনের উদাহরণ টেনেছেন গোবিন্দ। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমানের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চনকেও তাঁর ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে চরম দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল এবং যোগ্য অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তিনি কাজের বাইরে ছিলেন। একইভাবে এক সময়ের সুপারস্টার রাজেশ খান্নাকেও তাঁর জনপ্রিয়তার মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হয়েছিল। এমনকি তাঁর অভিনয় দক্ষতা ও উপস্থিতি নিয়ে আড়ালে-আবডালে বিরূপ মন্তব্য করতেও ছাড়েননি তৎকালীন সমালোচকরা। বর্তমান প্রজন্মের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানও যে এক সময় নানা বিতর্কের জালে বন্দি ছিলেন এবং সময়ের পরিক্রমায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন, সেই সত্যটিও তুলে ধরেন গোবিন্দ।
নব্বইয়ের দশকের দাপুটে এই অভিনেতা মনে করেন, বলিউডে বিতর্ক বা নেতিবাচক প্রচারণা অনেক সময় ক্যারিয়ারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। তাঁর মতে, এখানে প্রায় সকল সফল তারকাকেই এক সময় সুকৌশলে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয় কিংবা তাঁদের গায়ে নেতিবাচক তকমা সেঁটে দেওয়া হয়। তবে আসল সার্থকতা হলো সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি ও অবমাননাকে জয় করে পুনরায় স্বমহিমায় ফিরে আসায়। ২০১৯ সালে ‘রঙ্গিলা রাজা’ সিনেমার পর তাঁকে আর বড় পর্দায় দেখা না গেলেও, গোবিন্দর এই ধারালো মন্তব্য প্রমাণ করে যে, রূপালি পর্দার অন্দরমহলের সমীকরণ তিনি আজও নখদর্পণে রাখেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।