ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবার এক মহাকাব্যিক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ডি.সি. ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে নিজের পেশাদার ক্যারিয়ারের ৮৯৯তম গোলের দেখা পেলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এখন তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহকে ৯০০-এর জাদুকরী ঘরে পৌঁছে দিতে প্রয়োজন মাত্র একটি গোল। ফুটবল ইতিহাসে বর্তমানে ৯৬০ গোল নিয়ে কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাঁর সামনে অবস্থান করছেন; আর মাত্র এক ধাপ পেরোলেই মেসি হবেন ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ৯০০ গোলের মালিক।
মেসিকে ঘিরে দর্শকদের আকাশচুম্বী উন্মাদনার কারণে ইন্টার মায়ামির আজকের ম্যাচটি নির্ধারিত ভেন্যুর বদলে বাল্টিমোরের বিশাল এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক স্টেডিয়ামে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ৭২,০২৬ জন ফুটবলপ্রেমীর উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে মেসি তাঁর চিরচেনা ছন্দ প্রদর্শন করেন। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। মেসির এই গোলের আগেই ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো দি পলের গোলে লিড নিয়েছিল মায়ামি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। এটি চলতি মৌসুমে মায়ামির টানা দ্বিতীয় জয়। আগামী বুধবার কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচেই মেসির সামনে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ৯০০তম গোলের সুযোগ রয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মেসির রাজকীয় আয়ের বিষয়টিও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইন্টার মায়ামির অন্যতম কর্ণধার জর্জ মাস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ক্লাবের শেয়ার বা মালিকানা অংশসহ মেসি বছরে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পান। তিনি দাবি করেন, মেসিকে দেওয়া প্রতিটি সেন্টেরই সার্থকতা রয়েছে এবং তাঁর উপস্থিতিতে ক্লাবের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বহুগুণ বেড়েছে। এই বিশাল ব্যয় মেটাতে মায়ামি সম্প্রতি ব্রাজিলের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘নু’-এর সঙ্গে তাদের নতুন স্টেডিয়ামের নামকরণের জন্য একটি মেগা চুক্তি সরাই করেছে। ২৬,৭০০ আসনবিশিষ্ট এই ‘নু স্টেডিয়ামে’ আগামী ৪ এপ্রিল নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে মায়ামি।
এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, মেসি বর্তমানে লিগের সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড়। তাঁর মূল বেতন ১.২ কোটি ডলার হলেও বিভিন্ন ক্ষতিপূরণ মিলিয়ে তা ২ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস এবং লিগ সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল-এর সাথে লভ্যাংশ ভাগাভাগির চুক্তির মাধ্যমেও মেসির ঝুলিতে বিশাল অংকের অর্থ জমা হয়। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির গোলাপী জার্সিতে মাঠ মাতানোর কথা রয়েছে এই ফুটবল জাদুকরের। ভক্তদের নজর এখন বুধবারের সেই ম্যাচের দিকে, যেখানে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারে পুরো বিশ্ব।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।