ড্রামা অ্যাট দ্য ডেথ: রিয়ালের শেষ হাসিতে বার্সার কপালে চিন্তার ভাঁজ!

স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা লড়াই এখন এক শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। টানা দুই ম্যাচে জয়ের দেখা না পেয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ অবশেষে নাটকীয়ভাবে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে। শনিবার রাতে সেলটা ভিগোর মাঠ থেকে ২-১ গোলের এক রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার ঠিক ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমজমাট ছিল লড়াই। প্রথমার্ধেই ফরাসি তারকা চুয়ামেনির একটি জোরালো শট গোলপোস্টে লেগে জালে জড়ালে প্রথম লিড পায় মাদ্রিদ শিবির। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। স্বাগতিক সেলটা ভিগো দ্রুতই পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে রিয়ালের রক্ষণে ফাটল ধরায়। ইংলিশ ডিফেন্ডার ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ডকে উইং দিয়ে অনায়াসেই পরাস্ত করেন উইলিয়ট সোয়েডবার্গ। তাঁর বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে গোল করে বোরহা ইগলেসিয়াস ম্যাচ সমতায় ফেরান।

ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমে অর্থাৎ যোগ করা সময়ে দৃশ্যপটে হাজির হন ফেদেরিকো ভালভার্দে। তাঁর একটি দুর্দান্ত শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার মার্কোস আলনসোর শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে রিয়ালের ডাগআউট। এই ‘লাকি’ গোলেই শেষ পর্যন্ত রিয়ালের জয় সুনিশ্চিত হয়।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, রিয়াল মাদ্রিদ এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল একরকম ‘মিনি হাসপাতাল’ নিয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং জুড বেলিংহামের মতো মহাতারকাসহ দলের অন্তত ৬ জন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ইনজুরির কারণে স্কোয়াডের বাইরে ছিলেন। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং নতুন রণকৌশলে দল সাজাতে হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত সফল প্রমাণিত হয়েছে।

এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় বার্সেলোনার চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। যদিও মাদ্রিদ বর্তমানে বার্সার চেয়ে একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে। আজ শনিবার রাতেই অ্যাথলেটিক ক্লাবের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। সেই ম্যাচে কাতালানরা যদি জয় পায়, তবে পয়েন্ট ব্যবধান পুনরায় ৪-এ গিয়ে ঠেকবে। তবে রিয়ালের এই জয় শিরোপা প্রত্যাশীদের জন্য এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।