বিসিবি নির্বাচনে ‘পর্দার অন্তরালে’ কী ঘটেছিল? তদন্ত কমিটির ডাকেও কেন এলেন না আসিফ মাহমুদ?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিগত নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ ও নজিরবিহীন অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দেননি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে কমিটি। তবে এই রিপোর্টে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাবেক এই প্রভাবশালী উপদেষ্টার অনুপস্থিতি ও অসহযোগিতার বিষয়টি। দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্বাচন ঘিরে যে ধোঁয়াশা ছিল, আসিফ মাহমুদের এই নিরবতা তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিগত বছরের ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়মবহির্ভূত হস্তক্ষেপের অভিযোগে সেই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ক্লাব ও বিভাগীয় কাউন্সিলরদের একটি বড় অংশ। এমনকি প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ঢাকার শীর্ষ ক্লাবগুলো ঘরোয়া ক্রিকেট বয়কট করে আসছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা তদন্ত শেষে আজ কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান স্পষ্টভাবেই জানান যে, তদন্তের স্বার্থে এবং আনীত অভিযোগগুলো যাচাই করার জন্য আসিফ মাহমুদকে একাধিকবার সময় দিয়ে ডাকা হয়েছিল। মূলত তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি উপদেষ্টার পদমর্যাদা ব্যবহার করে জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর তালিকায় ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছেন। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আসলে আমরা উনাকে ডেকেছিলাম বিষয়গুলো পরিষ্কার করার জন্য, সরাসরি অভিযুক্ত করার জন্য নয়। আমরা জানতে চেয়েছিলাম তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আছে কি না। কিন্তু বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও তিনি আমাদের সামনে উপস্থিত হননি।’

কেবল সাবেক উপদেষ্টাই নন, এই তদন্তের আওতায় থাকা তৎকালীন নির্বাচন কমিশনও সশরীরে উপস্থিত হতে অনীহা প্রকাশ করেছে। তারা কমিটির মুখোমুখি না হয়ে কেবল লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমেই নিজেদের দায় সেরেছেন। আসাদুজ্জামান আরও যোগ করেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা সামনাসামনি আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অনেকেই উত্তর না দিয়ে কেবল লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন।’

একজন সাবেক বিচারক হিসেবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং প্রাপ্ত তথ্যাদি তাঁকে অবাক করেছে কি না—এমন এক রহস্যময় প্রশ্নের উত্তরে তদন্ত কমিটির প্রধান কিছুটা রাখঢাক রেখেই বলেন, ‘যা পেয়েছি তাই তো লিখেছি। সবটা বলতে গেলে বিষয়টি অন্যরকম মাত্রায় চলে যাবে। তাই এখনই বিস্তারিত বলছি না।’ তদন্ত কমিটির এই গোপনীয়তা এবং আসিফ মাহমুদের তদন্ত এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিসিবির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও বর্তমান কাঠামোকে এক বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দেশের ক্রিকেটে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে এই রিপোর্ট কতটুকু প্রভাব ফেলবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।