শক্তিশালী চীনের সামনে নির্ভীক টাইগ্রেসরা

সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক মহালড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত আসরে এটিই বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচ। প্রথম ম্যাচেই টাইগ্রেসদের মোকাবিলা করতে হবে এশীয় ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি, নয়বারের শিরোপাজয়ী এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের। এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার লক্ষ্যে সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে বর্তমানে নিবিড় ‘প্র্যাকটিস’ বা অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছেন মারিয়া-মনিকারা। রোববার সকালে অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অদম্য মানসিকতা ও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন দলের নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা।

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন বা আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুইবারের সাফজয়ী এই তারকা জানান, “আমরা এখানে আসার পর বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়েছে এবং এখানকার কন্ডিশনের সাথে আমাদের দারুণভাবে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস সেশনগুলো খুব ভালো হচ্ছে এবং আমরা প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে নিজেদের খেলার উন্নতি করার চেষ্টা করছি।” চীনের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে মাঠে নামাটা যে এক বিশাল পরীক্ষা, তা ভালো করেই জানে বাংলাদেশ দল। সে লক্ষ্যেই প্রধান কোচ পিটার বাটলার প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গা এবং দুর্বলতা বিশ্লেষণ করতে নিয়মিত ‘ভিডিও সেশন’ বা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার ব্যবস্থা করছেন। মনিকা জানান, চীন যেহেতু এশিয়ার সেরা এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, তাই তাঁদের প্রতিটি ‘পজিশন’ ও খেলার কৌশল নিয়ে প্রতিদিন কোচিং স্টাফদের সাথে মিটিং হচ্ছে। গোলকিপার থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার—চীনের প্রতিটি বিভাগই অত্যন্ত শক্তিশালী, তাই রক্ষণ ও আক্রমণভাগের যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বাস্তববাদী মনিকা চাকমা জয় বা ড্রয়ের কোনো আগাম আকাশকুসুম প্রতিশ্রুতি না দিলেও লড়াইয়ের তেজ স্পষ্ট করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “মাঠে আমাদের দেশের সম্মানের জন্য, পরিবারের জন্য এবং সর্বোপরি নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে আমরা শতভাগ উজাড় করে দেব। ফল যা-ই হোক না কেন, মাঠের লড়াইয়ে আমরা আমাদের সেরা ‘পারফরম্যান্স’ নিশ্চিত করতে চাই।” খেলার কৌশলের বিষয়ে তিনি আরও জানান, বলের দখল পেলে তাঁরা দ্রুত সংগঠিত আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করবেন এবং বল হারিয়ে ফেললে তৎক্ষণাৎ রক্ষণাত্মক পজিশন ফিরে পেতে সচেষ্ট থাকবেন।

যদিও মূল ভেন্যুতে এখনো অনুশীলনের সুযোগ মেলেনি, তবে রাগবি ও ফুটবলের জন্য সুপরিচিত জুবলি স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত ঘাসের পিচ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এই মিডফিল্ডার। সিডনির মাঠে আগামী মঙ্গলবার লাল-সবুজের জার্সিধারীরা চীনের প্রাচীর টপকাতে পারে কি না কিংবা কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো দেশের ফুটবল প্রেমীরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।