ডাগআউটে গুরু-শিষ্যের লড়াই: ৯ বছর আগের সেই ক্লাসরুম থেকে বিশ্বকাপ ফাইনাল

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ যে লড়াইটি হতে যাচ্ছে, তা কেবল দুই দেশের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়; এটি ফুটবল কোচিংয়ের এক অনন্য গুরু-শিষ্য সম্পর্কের আখ্যান। ২০১৭ সালের নভেম্বরের সেই দিনটির কথা ফুটবল প্রেমীদের অনেকেরই অজানা। মাদ্রিদের লাস রোজাসের ‘সিউদাদ দেল ফুটবল’-এ তখন অনুষ্ঠিত হচ্ছিল একটি কোচিং কোর্স। সেই ক্লাসরুমের সামনের সারিতে মনোযোগ দিয়ে বসে প্রশ্নবাণে শিক্ষককে ব্যতিব্যস্ত করে রাখতেন যে তরুণ, আজ তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর সেই শিক্ষকের আসনে ছিলেন আজকের স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।


৯ বছর আগের সেই ক্লাসরুমের দিনগুলো আজ এক জীবন্ত গল্পে পরিণত হয়েছে। সেই কোর্সে স্কালোনির সহপাঠী ছিলেন হাভিয়ের সাভিওলা ও ফের্নান্দো রেদোন্দোর মতো কিংবদন্তিরা। দে লা ফুয়েন্তের স্মৃতিচারণায়, স্কালোনি অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিলেন তার অদম্য কৌতূহল ও বিতর্কে জড়ানোর মানসিকতার কারণে। তিনি কেবল শিখতেন না, বরং কোচের প্রতিটি কৌশলে নিজের যুক্তি ও প্রশ্ন তুলে ধরতেন। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এখন বলা সহজ যে সে অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল, তবে তার মধ্যে সত্যিই সেই বিশেষ স্ফুলিঙ্গটি ছিল। সে সব সময় বলত, আমি বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখি।’


সেই কোর্সের অন্য সহপাঠী কার্লোস গুরপেগি ও পাবলো ওরবাইজদের মতে, স্কালোনি মাঠের অনুশীলনেও ছিলেন ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপরায়ণ। আজ সময়ের পরিক্রমায় সেই ছাত্র গুরুর চেয়েও কোচিং ক্যারিয়ারে বড় অর্জনের মালিক। ২০২১ সালে স্কালোনি যখন কোপা আমেরিকা জেতেন, তখন দে লা ফুয়েন্তে ছিলেন স্পেনের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ। এরপর স্কালোনি বিশ্বকাপ ও পুনরায় কোপা জয়ের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন, অন্যদিকে দে লা ফুয়েন্তে স্পেনকে জিতিয়েছেন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ।


গুরু-শিষ্যের এই সম্পর্কের গভীরতা মাঠের বাইরের মানবিক মূল্যবোধেও স্পষ্ট। দে লা ফুয়েন্তের মতে, তাদের দুজনের মধ্যে ফুটবল দর্শনের চেয়েও বড় মিল রয়েছে জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষকে সামলানোর ধরনে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সাফল্য ক্ষণস্থায়ী কিন্তু মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতাই প্রকৃত অর্জন।


ফাইনালে মাঠে নামার আগে স্কালোনি রসিকতা করে জানিয়েছেন, তিনি গুরুর সাথে ফোনে কথা বলার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে আপাতত তা স্থগিত। কারণ, লড়াইয়ের মঞ্চে এখন একে অপরের প্রতিপক্ষ তারা। তবে ম্যাচ শেষে হার বা জিত যা-ই হোক, একে অপরের জন্য ফোন কলটি যে আসবে-সেটি নিশ্চিত। বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের উত্তেজনায় আজ হয়তো কোচিং দর্শনের এই অনন্য গুরু-শিষ্য লড়াইটিই সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।