ফুটবল ম্যাচ না কি কুংফু লড়াই? এক ম্যাচেই ২৩ লাল কার্ডের নজিরবিহীন বিশ্বরেকর্ড!

ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এবার এক নজিরবিহীন ও কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হয়েছে। সাধারণত যেখানে ড্রিবলিং আর শৈল্পিক গোল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা, সেখানে ‘মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ফাইনালে দেখা গেল চরম বিশৃঙ্খলা। ক্রুজেইরো এবং আতলেতিকো মিনেইরোর মধ্যকার এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে রেফারিকে মোট ২৩ বার লাল কার্ড (Red Card) পকেট থেকে বের করতে হয়েছে, যা আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে এক বিরল ও অবিশ্বাস্য ঘটনা।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচে ক্রুজেইরো ১-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে শিরোপা নিশ্চিত করে। কিন্তু রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পরপরই মাঠের চিত্র আমূল বদলে যায়। জয়ের উৎসবের বদলে সবুজ গালিচা মুহূর্তেই এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় আতলেতিকো মিনেইরোর গোলরক্ষক এভারসন এবং ক্রুজেইরোর মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ানের মধ্যেকার একটি ছোট বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে। মুহূর্তের মধ্যে সেই বচসা চরম হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং উভয় দলের খেলোয়াড়, কোচ ও ডাগআউটে থাকা সাপোর্ট স্টাফরা একে অপরের ওপর চড়াও হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাঠের সেই দৃশ্য ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং কোনো ‘কুংফু’ লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। ফুটবলাররা পেশাদারিত্ব ভুলে একে অপরকে লক্ষ্য করে কিল, ঘুসি এবং লাথি চালাতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রেফারি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। এই লঙ্কাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে তিনি ক্রুজেইরোর ১২ জন এবং আতলেতিকো মিনেইরোর ১১ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখিয়ে বহিষ্কার করেন।

ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলের ইতিহাসে এটি এক ম্যাচে সবচাইতে বেশি লাল কার্ড দেখানোর নতুন রেকর্ড। ইতিপূর্বে ১৯৫৪ সালে পুর্তগুয়েসা ও বোতাফোগোর মধ্যকার একটি ম্যাচে ২২ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল, যা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ কার্ডের রেকর্ড হিসেবে টিকে ছিল। দীর্ঘ ৭২ বছর পর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল সোমবারের এই অপ্রীতিকর ঘটনার মাধ্যমে। এই নজিরবিহীন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় লাতিন ফুটবলের ভাবমূর্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।