২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটানের ‘গ্রাউন্ড জিরোতে’ আবেগঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হামলায় নিহতদের স্মরণ করা হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রথা ভেঙে নিউইয়র্কের মূল স্মরণ অনুষ্ঠানে না গিয়ে পেন্টাগনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ট্রাম্প। ২০০১ সালের ওই হামলায় ছিনতাই করা উড়োজাহাজ দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আঘাত হানা হয়েছিল। হামলায় নিহত ২ হাজার ৯৭৭ জনের অধিকাংশই সেখানে প্রাণ হারান।
নাইন-ইলেভেনের ওই হামলা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প নাইন-ইলেভেনের সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি যোগসূত্র তুলে ধরেন। পেন্টাগনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ২৫ বছর আগে নিহতদের স্মরণে নেওয়া শপথ নতুন করে গ্রহণের কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ওই দিনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র কখনো ভুলবে না। তার বক্তব্যে বর্তমান সংঘাতের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, তাদের আর কোনো উপায় নেই এবং লড়াইয়ে জয়ই একমাত্র লক্ষ্য।
এদিকে নিউইয়র্কের ‘গ্রাউন্ড জিরো’র মূল স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে ট্রাম্পের আগের চার জীবিত সাবেক প্রেসিডেন্টও অংশ নেন। তাঁরা হলেন রিপাবলিকান দলের জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং ডেমোক্র্যাট দলের জো বাইডেন, বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন।
নাইন-ইলেভেনের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। ফলে এবারের ২৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
শোকাবহ এই বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। নাইন-ইলেভেনের হামলার দিনের ঘটনাগুলো সময় ধরে স্মরণ করা হয়।
প্রতিবারের মতো এবারও হামলায় নিহত ব্যক্তিদের নাম পড়ে শোনানো হয়। একই সঙ্গে সেদিনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্মরণ করে ঘণ্টা বাজানো হয়। নিহতদের স্বজন ও স্বজনদের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রিয়জনদের স্মরণ করেন।
সাধারণত গ্রাউন্ড জিরোর এই স্মরণ অনুষ্ঠান রাজনীতিমুক্ত রাখা হয়। সেখানে রাজনৈতিক ভাষণও দেওয়া হয় না। তবে এবার নিহতদের নাম পড়ে শোনানো স্বজনদের কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাঁদের বক্তব্যে সৌদি আরবের সমালোচনা উঠে আসে। পাশাপাশি সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
নাইন-ইলেভেনের ২৫ বছর পরও হামলায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে সেই দিনের ক্ষত ও প্রশ্ন যে পুরোপুরি মুছে যায়নি, এবারের স্মরণ অনুষ্ঠানেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। একদিকে নিহতদের স্মরণে আবেগঘন আয়োজন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ক্ষোভ-দুই ধরনের বার্তাই উঠে এসেছে এবারের আয়োজনে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।