অফিসে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ, ৪ দিন পর উদ্ধার ব্যাংক কর্মকর্তার নিথর দেহ; পাশে বিষের বোতল

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালকাপ্রসাদ এলাকায় অবস্থিত বিসিক (BSCIC) শিল্পনগরীর সীমানা সংলগ্ন নির্জন স্থান থেকে নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম মো. আলমগীর হোসেন, যিনি জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর ভৈরব শাখায় কর্মরত ছিলেন।


পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আলমগীর হোসেনের আদি নিবাস হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর লম্বাহাটি গ্রামে। তবে পেশাগত কারণে তিনি সপরিবারে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে প্রতিদিনের মতো অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাসায় না ফেরায় এবং তাঁর স্মার্টফোনটি বন্ধ পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, আলমগীর হোসেন সেদিন অফিসেও উপস্থিত হননি।


এই রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় ওই দিনই আলমগীরের স্ত্রী ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অন্তর্ভুক্ত করেন। নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ ও আত্মীয়-স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে সন্ধান চালালেও তাঁর কোনো হদিস মিলছিল না। চার দিন পর বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় স্থানীয় পথচারীরা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের বলে শনাক্ত করে।


নিহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বিলাপ করতে করতে জানান, তাঁর স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন আগে আলমগীর তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি ‘লাপাত্তা’ হয়ে যাবেন। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সে সম্পর্কে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।


ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকদ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, মরদেহটি উদ্ধারের সময় পাশে একটি ছোট বোতল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পুলিশের ধারণা, ওই বোতলটিতে বিষজাতীয় কোনো দ্রব্য ছিল। নিহতের এক পায়ে সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও শরীরে অন্য কোনো গুরুতর জখম পরিলক্ষিত হয়নি। পুলিশের অনুমান, মরদেহ উদ্ধারের কয়েক দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়েরটি নিয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।