১০ বছরের সাজা বাতিলের দাবিতে আপিল বিভাগে ইনু: সর্বোচ্চ আদালতে এবার কোন মোড়?

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় বাতিল ও খালাস চেয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ে আবেদন করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই আপিলটি দায়ের করা হয়েছে।

আজ বুধবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনুর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিফাত মাহমুদ। প্রসিকিউশনের অভিযোগের দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, "মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগগুলোর সপক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্য–উপাত্ত হাজির করতে পারেনি প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। অভিযোগগুলো ফৌজদারি আওতায় পড়ে না। এ সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়েছে।"

এর আগে চলতি বছরের ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ বহুল আলোচিত এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘোষিত রায়ে আসামির বিরুদ্ধে আনা আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে প্রসিকিউশন তিনটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। প্রমাণিত হওয়া ওই তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতেই হাসানুল হক ইনুকে পৃথকভাবে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

সে সময় সাজার কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে ট্রাইব্যুনালটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেছিলেন, "তিনটি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে ১০ বছর করে, তাহলে ৩০ বছর হয়। কিন্তু এই সাজা যুগপৎ চলবে। অর্থাৎ সাজা হবে ১০ বছর।" ফলে ইনুকে কার্যত মোট ১০ বছরের সাজা ভোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে একই মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডকে অপর্যাপ্ত দাবি করে আগেই সক্রিয় হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ইনুর এই সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আর্জি জানিয়ে ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে পৃথক আপিল দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। গত ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের কাছে রাষ্ট্রপক্ষের সেই আপিল দায়েরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছিলেন। ফলে একদিকে রাষ্ট্রপক্ষের ফাঁসির দাবি এবং অন্যদিকে আসামিপক্ষের সম্পূর্ণ খালাস চাওয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের বিচারিক প্রক্রিয়াটি এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এক তীব্র আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।